আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার খুলল সুটিয়া ফাইলস! ফের শুরু বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার তদন্ত! দুষ্কৃতীর হাতে প্রাণ হারানো প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণের বাড়িতে সিআইডির আধিকারিকরা। বরুণের দিদি-দাদা ও পরিবারের সদস্যদের কথা বলছেন তাঁরা। এ দিন ফের রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে বরুণ হত্যাকাণ্ডের 'মাস্টারমাইড' বলে দাবি করেছেন তাঁর দিদি প্রমীলা রায়। 'পথের কাঁটা' বরুণকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
১৪ বছর আগে ৫ জুলাই গোবরডাঙায় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিলেন প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। রাজ্যে পালাবদলের পর বরুণের খুনের বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, তৃণমূলের আমলে তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে। হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির তত্ত্বাবধানে একটি সিট গঠন করে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরই বৃহস্পতিবার সিআইডির দল পৌঁছল বরুণের বাড়িতে। এক সংবাদমাধ্যমে বরুণের দিদি প্রমীলাদেবী বলেন, "সিআইডি কথা বলেছে। আমরা ফের তদন্ত চেয়েছি। আমার ভাই তোলাবাজি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পরিকল্পনা করে ভাইকে খুন করে। বিচার চাই।"
২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে গুলি করে খুন করা হয় বরুণকে। তিনি কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটশনের শিক্ষক ছিলেন। এই খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বেও ১০০-১৫০ জন হামলা চালিয়ে বরুণকে খুন করেছে। এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে জেলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় সেই সময় জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছাড়া পেয়েছেন অন্য অনেক অভিযুক্ত। তদন্ত নিয়ে খুশি নন পরিবারের সদস্যরা। তৃণমূল সরকারের আমলে বিচার না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন তাঁরা। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাই রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন করে তদন্ত শুরুর আর্জি জানায় পরিবার। তারপরই এ দিন সিআইডি কথা বলতে পৌঁছেছে বরুণের বাড়িতে।
