সৌরভ মাজি, বর্ধমান: এবার বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি। তা নিয়ে সর্বত্র উঠেছে হাসির রোল। বিজেপিকে এই ইস্যুকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূলও। যদিও নিজের মন্তব্য নিয়ে আর একটিও শব্দ খরচ করতে নারাজ সাংসদ।
শুক্রবার রাজ্যের প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের (Vande Bharat Express) সূচনা হয়। মাতৃবিয়োগের কারণে আহমেদবাদ থেকে ভারচুয়ালি সেমি হাইস্পিড ট্রেনের উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় হাওড়া স্টেশনে রেলের সবুজ পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক দিনে বিভিন্ন স্টেশনে অন্যান্য বিজেপি বিধায়ক-সাংসদদের দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিল। বর্ধমানে ছিলেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার।
তিনি বলেন, “বন্দে ভারত এক্সপ্রেস গর্বের বিষয়। বাঙালি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। সবচেয়ে গর্ব অনুভব করি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে। স্বামী বিবেকানন্দ থিওরি দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন। তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী হয়ে নিজের আত্মিক উন্নতির জন্য কিছু করেননি। পদব্রজে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন। ভারতের রোগ নির্ণয় করেছেন। সমস্যা কোথায় তাঁর বাণীর মধ্যে দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন। শিক্ষাপদ্ধতি কী হওয়া উচিত তাও বলেছিলেন।”
[আরও পড়ুন: ‘আপত্তি থাকলে বিধানসভায় বিল আনুন’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বিতর্কে মমতাকে পরামর্শ দিলীপের]
এরপর বিবেকানন্দের সঙ্গে মোদির তুলনা করে বলেন, “আমাদের এই নরেন অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি শিক্ষাপদ্ধতির আমূল পরিবর্তন করেছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোয় দাঁড়িয়ে যা বলেছিলেন তার সঙ্গে মোদির কোন ফারাক নেই। বিবেকানন্দ থিওরি দিয়েছিলেন। হাতেকলমে নরেন্দ্র মোদি সেটা সম্পূর্ণ করছেন। এটা একটা অনুভবের ব্যাপার। যুক্তি, তর্কে, বিজ্ঞানে হবে না। আধ্যাত্মিক ভাবনা থাকতে হবে।”
মোদিকে বিবেকানন্দের সঙ্গে তুলনা করায় জোর সমালোচনার মুখে বিজেপি সাংসদ। পালটা তাঁকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। রাজ্যের অন্যতম মুখপাত্র দেবু টুডু বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করে বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছিলেন। একজন বাঙালি হিসেবে তার জন্য আমরা গর্ব অনুভব করি। আর বিজেপি সাংসদ সেই মহান ব্যক্তির সঙ্গে যাঁর তুলনা করেছেন তিনি বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন কীভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঠাতে হয়। নীরব মোদি, বিজয় মালিয়ার মতো লোকেদের মাধ্যমে ভারতবর্ষের মানুষের কষ্টের রোজগারের টাকা কীভাবে লুট করে পালাতে হয় তা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছেন বিজেপির ওই নেতা। যিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী।” তবে এই প্রথম নয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীকে ভগিনী নিবেদিতা এবং সারদা মায়ের সঙ্গে তুলনা করতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় কটাক্ষের মুখে পড়ে রাজ্যের শাসকদল।
