মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পরেই তামান্না হত্যা মামলার তদন্তে গতি। টানা অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখকে। তাঁদের আজ, শুক্রবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা মিনারুল শেখকে ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। মোট ৩ জনকে আজ আদালতে পেশ করা হয়েছে। মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯। অধরা এখনও ৫। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
গত বছর ২৩ জুন কালীগঞ্জ থানার মোলান্দি গ্রামে দুষ্কৃতীদের ছোড়া সকেট বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্না খাতুনের। ঘটনায় নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন ২৪ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথম দফায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি অভিযুক্তরা পলাতক ছিল। মঙ্গলবার বিধানসভায় তামান্না খুনের বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, তামান্নার পরিবারও বিচার পাবে। এরপরই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কথা দিয়েছিলেন, ছোট্ট তামান্না বিচার পাবেই। এরপরই শুরু হয় পুলিশের ধরপাকড়। গ্রেপ্তার করা হয় একের পর একজনকে।
এ দিকে তামান্না হত্যা মামলায় একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখছেন, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাজনৈতিক পরিচয় কোনও মাপকাঠি নয়, অপরাধ যে-ই করুক, আইনের চোখে সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রযোজ্য।' শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে আরও জানিয়েছেন, নিহত নাবালিকার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ।'
