রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল বদল, তাঁর আগমনে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ - এসব নিয়ে শনিবার দিনভর তরজা চলল শিলিগুড়িতে। আর তার মাঝে রাষ্ট্রপতিকে কাছে পেয়ে বঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার আওতায় ভোটের দাবি তুললেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁকে পালটা দিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক গৌতম দেব বললেন, ''এসব স্ক্রিপ্টেড। রাষ্ট্রপতি এখান থেকে দিল্লি পৌঁছতে পারলেন না আর বিজেপি সাংসদ বলছেন রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা! এসব চিত্রনাট্য ছাড়া আর কী?'' রাষ্ট্রপতি শাসনই হোক অথবা রাষ্ট্রপতির ঝটিকা সফর, শনিবার দিনভর এনিয়ে কাটাছেঁড়াতে সীমাবদ্ধ রইল শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহল।
শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে স্বাগত জানানো নিয়ে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ ওঠে বিজেপির তরফে। পালটা রাজ্য সরকারের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয় যে কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ করা হয়নি। বিষয়টি কেন্দ্র করে এতটাই জটিলতা তৈরি হয় যে এই প্রথম রাষ্ট্রপতি ভবন এবং নবান্ন নজিরবিহীন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল। এনিয়ে এখনও যথেষ্ট চর্চা চলছে। তবে এরই মাঝে সুযোগ বুঝে ফের রাজ্য প্রশাসনকে হেয় করতে আসরে নেমে গিয়েছেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান শেষ করে ফিরে যাওয়ার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে রাজু বিস্তা দাবি করেন, ''বাংলার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এই অবস্থায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার আওতায় ভোট করা হলে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব। আমি দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।''
সাংবাদিক বৈঠক করে রাজু বিস্তা দাবি করেন, ''বাংলার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এই অবস্থায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার আওতায় ভোট করা হলে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব। আমি দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।''
এরপরই সাংবাদিক বৈঠক করেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনিই শনিবার রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। সেই বিতর্কে একাধিক যুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপি সাংসদকেও জবাব দেন গৌতম দেব। তাঁর কটাক্ষ, ''রাষ্ট্রপতি এখান থেকে অনুষ্ঠান সেরে দিল্লি পৌঁছতে পারলেন না আর বিজেপি সাংসদ বলছেন রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা! রাষ্ট্রপতিকে দেখে কি তাঁর এসব মনে পড়ল? সব স্ক্রিপ্টেড, তাঁর দলের বড় নেতারা যা বলেন, উনিও তাই বলছেন। স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে ওঁকে ভাবতে হবে না। তৃণমূল ভোটে কারচুপি করলে উনি জিতলেন কীভাবে? সাংসদ হয়ে নিজের কেন্দ্রে থাকেন না, এখন ভোটের মুখে বড় বড় কথা বলছেন!''
গৌতম দেবের কটাক্ষ, ''রাষ্ট্রপতি এখান থেকে অনুষ্ঠান সেরে দিল্লি পৌঁছতে পারলেন না আর বিজেপি সাংসদ বলছেন রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা! রাষ্ট্রপতিকে দেখে কি তাঁর এসব মনে পড়ল? সব স্ক্রিপ্টেড, তাঁর দলের বড় নেতারা যা বলেন, উনিও তাই বলছেন।''
বারবারই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ তুলে রাজ্যের গেরুয়া নেতৃত্ব বিশেষত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তোলেন। কিন্তু সেসব এতদিন ধোপে টেকেনি। রাজু বিস্তার দাবিও তাই ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন গৌতম দেব।
