দুর্গাপুরে ব্যবসায়ী সমিতি দখল ঘিরে উত্তেজনা। ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদককে মারধরের অভিযোগ। অশান্তি ঠেকাতে তুমুল লাঠিচার্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর। "বিজেপির নাম করে তৃণমূল রাজ চলছে এলাকায়।" পাল্টা দাবি দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের।
দুর্গাপুর সেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অশান্তি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। দুর্গাপুর সেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, "আচমকাই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা সমিতির অফিস দখলের উদ্দেশে জড়ো হয়। ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ জানালে তাঁদের উপর চড়াও হয়।" ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাজার এলাকায়। এরপর ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে দুর্গাপুরের সেন মার্কেট।
দুর্গাপুরে জমায়েত হটাতে বাহিনীর লাঠিচার্জ। ছবি: সনাতল গরাই।
দুর্গাপুর সেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাগর সাহার অভিযোগ, "বিজেপিকে আমরা ভোট দিয়ে নিয়ে এলাম। এখন ওরাই আমাদের উপর প্রভাব খাটাচ্ছে। যদি এভাবে সম্পাদকের উপর হামলা হয়, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপরও যে কোনও সময় হামলা হতে পারে। বাজার ব্যবসায়ী সমিতি কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। সব রাজনৈতিক দলের মানুষই এখানে রয়েছেন। তাহলে কেন এই হামলা হল?"
সরকারে আসার প্রথম দিন থেকেই বিজেপি কর্মীদের সংযমী বার্তা দিয়েছেন নেতৃত্বরা। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতারাও বারবার বার্তা দিয়েছেন, গেরুয়া সরকারের আমলে শাসনের আইন চলবে না। বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার বার্তাই বারবার দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। শুক্রবারই ভোট পরবর্তী অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫০ বিজেপি কর্মীদের শোকজ করেছে দল। যদিও দুর্গাপুরে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠলেও দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন,"এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। কিছু তৃণমূলের লোক রাতারাতি বিজেপিতে চলে এসে অশান্তি ছড়াচ্ছে। আমি পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আবেদন করেছি। কী ঘটনা ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। কিন্তু বাজার যাতে বন্ধ না থাকে সেই আবেদন ব্যবসায়ী সমিতির কাছে রাখবো।"
