shono
Advertisement
Farakka

দেহ টুকরো করে বস্তায় বেঁধে ভাসাল 'প্রেমিকা', ফরাক্কায় উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহাংশ, নেপথ্যে পরকীয়া?

মৃত যুবকের নাম সুজিত মণ্ডল। তিনি ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গরুর হাটের বাসিন্দা। সুজিত বিড়ি কোম্পানিতে কাজ করতেন। পাশাপাশি সুদেরও কারবার চালাতেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ আগস্ট সকাল ৮টা নাগাদ সুজিতের কাছে একটি ফোন আসে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তারপর থেকে নিখোঁজ।
Published By: Subhankar PatraPosted: 08:12 PM Sep 03, 2026Updated: 08:18 PM Sep 03, 2026

ত্রিকোণ প্রেমে হাড়হিম কাণ্ড মুর্শিদাবাদে! পরকীয়ায় জড়িয়ে ছিলেন বিজেপি সমর্থক। সেই মহিলার সঙ্গে অন্য যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাতেই যুবককে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন!  দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে সিমেন্টের বস্তার মধ্যে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। ৭ দিন নিখোঁজের পর বিজেপিকর্মীর দেহ উদ্ধারে এমনটাই অনুমান পুলিশের। বৃহস্পতিবার ফরাক্কার বল্লালপুর ফিডার ক্যানেল ঘাট থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও মাথা-সহ দেহের বাকি অংশের খোঁজে ফিডার ক্যানেলে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ডুবুরি নামানো হয়েছে। এই কাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফরাক্কা-সামশেরগঞ্জজুড়ে।

Advertisement

মৃত যুবকের নাম সুজিত মণ্ডল। তিনি ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গরুর হাটের বাসিন্দা। সুজিত বিড়ি কোম্পানিতে কাজ করতেন। পাশাপাশি সুদেরও কারবার চালাতেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ আগস্ট সকাল ৮টা নাগাদ সুজিতের কাছে একটি ফোন আসে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ঘটনার দিন রাখি পূর্ণিমা থাকায়, স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে জানান তিনি পরে যাবেন। কিন্তু আর যাননি।

দেহাংশের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

পরিবার জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সুজিতের ফোন ব্যবহার করে তাঁর ছেলের কাছে ফোন করেন। ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার। তবে অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ বিষয়টিকে পাত্তা দেয়নি। জেনারেল ডায়েরি করে ফেলে রাখা হয়। সে সময় পুলিশের সঙ্গে বিজেপিকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয়, কয়েকজনকে আটকও করা হয়।

এ দিকে তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশ গত দু'দিনে এক মহিলা-সহ দু'জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপরই উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া মহিলার সঙ্গে সুজিতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ওই মহিলার আবার অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, সুজিত মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন।

অনুমান, তাই প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সুজিতকে সরানোর পরিকল্পনা করে ওই মহিলা। এই ঘটনায় ওই মহিলা ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকেও আটক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ২৮ তারিখ সুজিতকে অপহরণ করে ধুলিয়ানের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। দুপুর ১টার পর মোটরসাইকেল করে কয়েক দফায় বিভিন্ন জায়গায় দেহাংশ ফেলে আসে তারা। ঘটনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের আরও দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ফরাক্কা থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। যার এখনও খোঁজ মেলেনি। তাঁকেও খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। ফরাক্কা পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য তথা সুজিতের বোন অপরাজিতা মণ্ডল সাহা বলেন, "শুনেছি দাদার দেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক কারা, কী কারণে এই খুন করেছে।" বিজেপির মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার এক্সিকিউটিভ সদস্য প্রবীর সাহা বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি উদ্ধার হওয়া দেহাংশ আমাদের সমর্থক সুজিত মণ্ডলের। গত ২৮ অগাস্ট থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। টাকা-পয়সার বিবাদেই খুন হতে পারেন।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement