ঘুড়ির নেশাই কাল! পুকুরে তলিয়ে মৃত্যু বালকের। দীর্ঘ তল্লাশির পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মৃত বালকের নাম রোহন শেখ। বয়স ৯ বছর। সে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট (Mograhat) থানার অন্তর্গত দক্ষিণ কাশি কাটিকাটপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র সন্তান। হাসি খুশি স্বভাবের রোহন সকলের আদুরে ছিল। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে মগরাহাট বিডিও অফিস সংলগ্ন মাঠে এলাকার বালকদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল সে। সেই সময় একটি ঘুড়ি কেটে পাশের একটি পুকুরের দিকে চলে যায়। স্থানীয়দের অনুমান, ঘুড়িটি জলে পড়ে যাওয়ায় সেটি তুলতে পুকুরে নেমেছিল বালক। তখনই বিপত্তি!
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও রোহনকে আর দেখা যায়নি। তখনই সন্দেহ হয় সকলের। স্থানীয় যুবক ও বাসিন্দারা খোঁজ শুরু করেন। পুকুরে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় রোহনকে। সকলের আশা ছিল তাকে বাঁচানো যাবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মগরাহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছোট্ট ছেলের নিথর দেহ দেখে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন বাবা-মা এবং আত্মীয়-পরিজনেরা। এলাকাতেও নেমে আসে শোকের আবহ।
স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আজগর হোসেন লস্কর জানান, "বিকেলে মাঠে অনেকেই খেলছিল। সম্ভবত ঘুড়ি ধরতে গিয়েই রোহন পুকুরে নেমেছিল।" তিনি আরও দাবি করেন, রোহনের মৃগীর সমস্যা ছিল। তাঁর অনুমান, জলে নামার পর হয়তো তার সেই অসুস্থতা দেখা দেয়। ফলে সে আর নিজেকে সামলাতে পারেনি। জলে তলিয়ে যায়। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা চিকিৎসাগত নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি।
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বালক জলে পড়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুকুর এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয়রা।
