মাঝরাতে বাড়িতে পুলিশি অভিযান। গ্রেপ্তার ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের দাদা। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তার করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। ধৃতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, পরিবারের মহিলা সদস্যদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে অভিযুক্ত।
ধৃত উত্তম রায়। তিনি ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ক্যানিং পশ্চিম বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, "উত্তম দাস সম্পর্কে তাঁর দাদা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে ক্যানিং থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উত্তম দাসের বাড়ি পৌঁছয়। উত্তম দাসকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মহিলাদেরও মারধর করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে না গিয়ে, সকালে থানায় ডাকতে পারত। যেভাবে রাতে গ্রেপ্তার এবং মহিলাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।"
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ মে, ভোটের ফলপ্রকাশের সন্ধ্যায় ক্যানিংয়ে গুলি চলে। সেই ঘটনায় জখম হন এক বিজেপি কর্মী। এই গুলিকাণ্ডে যুক্ত ছিল ধৃত উত্তম দাস। এলাকায় হুমকি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উত্তম দাসের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, মারধর, হুমকি, প্ররোচনা দেওয়ার মতো একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। যদিও ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়কের দাবি, "ধৃতের বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে, তা হওয়া উচিত নয়।" শনিবার ধৃত উত্তম দাসের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। তারপর আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য় ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হবে।
এদিকে, কয়লার ডিও থেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার অন্ডাল ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি কাঞ্চন মিত্র। তৃণমূল আমলে কয়লার ডিও থেকে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। এলাকার মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি জমি কারবারের সাথেও যুক্ত ছিল। এছাড়া মহম্মদ মোজাম্মেল নামে আরও একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। সে-ও একই কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে এই দু'জনকে গ্রেপ্তার করে অন্ডাল থানার পুলিশ।
