পুনর্নির্বাচনের দিনপাঁচেক আগে ফলতায় চরম উত্তেজনা। গ্রেপ্তার 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সাইদুল খানকে গ্রেপ্তার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বলেই দাবি পুলিশের।
দীর্ঘদিন ধরেই সাইদুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্য়ে অন্যতম খুনের চেষ্টা, রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ। তারই তদন্তে নেমে শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ সাইদুলের বাড়িতে হানা দেয়। গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। ২৪ মে ফলপ্রকাশ। যদিও ইতিমধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। তারপর ফলতায় ভোটের প্রচারে কর্মিসভা রয়েছে তাঁর। আগামী ১৯ মে প্রচারের শেষ দিন ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার কথাও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফলতার বিজেপি কর্মীরা বিশেষভাবে উৎসাহিত। এই আবহেই দীর্ঘ সময় পর শুক্রবার ফলতায় প্রকাশ্যে দেখা গেল ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে।
সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শ্রীরামপুরে নিজের দলীয় অফিসে ঢোকেন। এখানে বসেই ২৯ এপ্রিল ভোট পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই জাহাঙ্গির খানের এই দলীয় অফিসটিতেই ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তারপর শুক্রবার নিজের সেই দলীয় অফিসে যান জাহাঙ্গির। কোথায় ছিলেন এতদিন? উত্তরে জাহাঙ্গিরের জবাব, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই প্রতিদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে প্রশাসন যেভাবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে, সে কারণেই এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রকাশ্যে আসিনি। পুলিশ আমাকে বাড়িতে ফিরিয়েছে, ডাহা মিথ্যে কথা। বাড়িতেই ছিলাম। প্রশাসন যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে, অশান্তি এড়াতেই প্রকাশ্যে আসিনি।”
