সুব্রত বিশ্বাস: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরও কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক যুবক। বালিঘাট এলাকা থেকে পুলিশ এই টাকা নেওয়ার দৃশ্য মোবাইল-বন্দি করে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে ওই যুবক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ধৃত যুবক টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাঁর দাবি, ভরতি করিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্রর পরিবারই তাকে টাকা দেয়। ধৃত জিৎকে এদিন আদালতে হাজির করে পুলিশ।
[শৈশবেই অপরাধে হাত পাকানো, নদিয়ায় ‘কঙ্কাল কারিগর’-এর গ্রেপ্তারিতে খুলছে জট]
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবক বেলুড় লালবাবা কলেজে এক ছাত্রকে ভরতি করিয়ে দেওয়ার নাম করে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। ওই ছাত্র অত টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে টাকার অঙ্কের পরিমাণ ১২ হজারে নেমে আসে। আগাম ৮ হাজার টাকা দিতে ওই ছাত্রকে বালিঘাট এলাকায় ডেকে পাঠায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্দেহ হওয়ায় ছাত্রের পরিবার পুলিশকে বিষয়টি জানালে সাদা পোশাকে পুলিশ হাজির হয় সেখানে। টাকা হস্তান্তরের সময় ছবিও তোলা হয়। এর পর গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে।
ধৃত জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেকে বালির প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক কণিকা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে দাবি করেছে। যদিও কণিকা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছে ওই যুবক। তাঁর অবিবাহিত দাদা রয়েছেন। বাপের বাড়ির পদবি ভট্টাচার্য। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর এলাকার হলেও কোনওরকম পারিবারিক সম্পর্ক নেই তাঁদের সঙ্গে। যদিও তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেতা আলোক গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাইপো জিৎ। লালবাবা কলেজের পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধৃত যুবক কলেজের ছাত্র না হলেও এই টাকা তোলার কাজ করছিল। খবর পেয়ে পুলিশকে জানালে তারাই তাকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃত যুবকের দাবি, ওই কলেজে পাঁচজনকে সে ভরতি করেছে। যদিও কলেজ অধ্যক্ষ এই দাবি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, মেধাতালিকা অনুযায়ী ভরতি প্রক্রিয়া চলছে। অনলাইনে ভরতি হচ্ছে পড়ুয়ারা। সেখানে টাকা নিয়ে ভরতির দাবি অমূলক। সম্প্রতি কলেজে ভর্তিতে টাকার খেলার বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এর পরেই দলের ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রীকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কড়া ব্যবস্থার পরও এমন অভিযোগ লালবাবা কলেজের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
[শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে গুলি করে খুন যুবকের, কোন্নগরে ‘লাভ জেহাদ’-এর ছায়া]
The post কলেজে ভরতির নামে তোলাবাজি, হাতেনাতে পাকড়াও যুবক appeared first on Sangbad Pratidin.
