‘রঘু ডাকাত’ ফ্লপ করার পর বলা হয়েছিল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় ফিনিশড। সেখান থেকে ২০২৬-এর প্রথম ব্লক বাস্টার হিট। কীভাবে সম্ভব হল?
- সেদিন একটি পরিসংখ্যানে দেখলাম, সাম্প্রতিক বাংলা ছবির ইদানীং বক্স অফিসের নিরিখে আমি মাত্র সাতটি ছবি পরিচালনা করেই প্রথম চারজন পরিচালকের মধ্যে আছি। আমার উদ্দেশ্য প্রতিটি ছবিতে সততার সঙ্গে একটি সুন্দর, মনোগ্রাহী গল্প বলা। ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’ সেই চেষ্টারই ফসল।
বক্স অফিস সাফল্যকে কতটা গুরুত্ব দেন?
- একজন দক্ষ কর্মী তাঁর কাজের পারিশ্রমিককে যতটা গুরুত্ব দেন, ততটাই। যে টাকায় আমার ও আমার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের সংসার চলে, স্বপ্নপূরণ হয়, তার গুরুত্ব সব সময়ই অপরিসীম।
‘বগলা মামা’, ‘রঘু ডাকাত’ যখন ফেল করেছিল, নিজেকে কী বলেছিলেন?
- ‘বগলা মামা’ আর ‘রঘু ডাকাত’, এই দুটো গল্প আমি বহু বছর ধরে বলতে চেয়েছি। নিজেকে সব সময় বলি যে আমার অসীম সৌভাগ্য যে আমি ছবি দুটো করতে পেরেছি।
"বাংলার একটি গোটা প্রজন্মকে তাদের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে আনা, তাদের মনে নিজের শেকড়কে জানার ইচ্ছের প্রকাশ ঘটানো এবং তার সঙ্গে একটি নিটোল গল্প বলা, আমার কাছে দশটি ভিন্নধর্মী ছবি বানানোর থেকে অনেক বড় কাজ।"
নিজের লেখা গল্প পর্দায় এমন সফল হল। বই করার কথা ভাবছেন? ছবিটা ৫০ দিন পার করেছে। শীঘ্র ওটিটি-তে আসবে।
- বইয়ের কথা মাথায় আছে প্রথম থেকেই। ভাবনা চলছে। গত ৪ জুলাই ৫০ দিন পূর্ণ করেছে ছবিটা। প্রতিটি উইকএন্ড হাউস ফুল গিয়েছে। ছবিটি ‘হইচই’-তে আসছে ১৭ জুলাই। আশা করি আবার সবাই দেখবেন।
'রঘু ডাকাত' ফ্লপ করার পর শুনতে হয়েছিল ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় 'ফিনিশড'! কী জবাব পরিচালকের?
ট্রেজার হান্ট-এর বাইরে বেরোবেন না?
- সাহিত্য থেকে না নিয়ে, নিজের সৃষ্ট কিছু মৌলিক চরিত্র নিয়ে, শুধুমাত্র বাংলার পটভূমিতে তৈরি করা ট্রেজার-ফ্র্যাঞ্জাইজি, বাংলা কেন, সর্বভারতীয় সিনেমাতেই এই প্রথম, যার চারটি ছবিই বক্স অফিসে চূড়ান্ত সফল। বাংলার একটি গোটা প্রজন্মকে তাদের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে আনা, তাদের মনে নিজের শেকড়কে জানার ইচ্ছের প্রকাশ ঘটানো এবং তার সঙ্গে একটি নিটোল গল্প বলা, আমার কাছে দশটি ভিন্নধর্মী ছবি বানানোর থেকে অনেক বড় কাজ। অন্য ছবি আমি নিশ্চয়ই বানাব, তবে তা আমার ভাবনার সঙ্গে মিললে তবেই।
‘সপ্তডিঙার গুপ্তধন’-এর পরেই ব্যবসার নিরিখে ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’, কী বলবেন নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে?
- আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নই। বাংলা সিনেমার সার্বিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন সারা বছরে অনেকগুলি ছবির বক্স অফিসে সফল হওয়ার, প্রথম ছ’মাসে শুধুমাত্র ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’, ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ আর ‘কাকাবাবু’র সফল হওয়া নয়। তাই আমি আশা করব শিবু-নন্দিতাদি ছাড়াও বাকিদের পরবর্তী ছবিগুলিও সফল হবে।
"বাচ্চাদের ছবি বানানো যদি এতটাই অকিঞ্চিৎকর হত, তাহলে সত্যজিৎ রায় ‘গুপী বাঘা’ বা ‘ফেলুদা’র ছবিগুলো বানাতেন না। ওঁর বড়দের ছবিগুলোই ওঁকে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট হত।"
টিম 'সোনাদা' এবং পরিচালক
ছুটি বা উৎসবের সময়ের বাইরে এসেও আপনার ছবিটা বাণিজ্য করল। তারপরেও ‘সপ্তডিঙ্গা’কে একাংশ গুরুত্ব দিতে নারাজ। যে ওটা বাচ্চাদের ছবি। কী বলবেন?
- আমার কাছে ছবি শুধুমাত্র ভালো বা খারাপ। আর ছোটদের ছবি বানানো যদি এত সহজ হয়, তাহলে আশা রাখি বাকি পরিচালকরাও করবেন এবং একইরকম বাণিজ্যিক সাফল্য আনবেন। তাতে ইন্ডাস্ট্রিরই ভালো হবে। বিজ্ঞাপন আমাকে টার্গেট অডিয়েন্সের কথা শিখিয়েছে। সবার জন্য ছবি করতে গেলে, কারও জন্য ছবি করা হয় না। আমরা বড়দের দিকে তাকাতে গিয়ে বাচ্চাদের একটা গোটা প্রজন্মকে বঞ্চিত করছি সুস্থ বিনোদন থেকে।
হুম...
- তাই তারা লুকিয়ে লুকিয়ে বড়দের ছবিই দেখছে। এই সমাজ সচেতনতা থেকেও আমার এই ছবিগুলো বানানো। এবং প্রয়োজনে এ লড়াই আমি একাই লড়তে রাজি। আমার দায়বদ্ধতা আমার প্রাথমিক দর্শকের কাছে এবং প্রযোজকের কাছে। বাকিটা নিয়ে আমি সত্যিই ভাবি না। তা ছাড়া বাচ্চাদের ছবি বানানো যদি এতটাই অকিঞ্চিৎকর হত, তাহলে সত্যজিৎ রায় ‘গুপী বাঘা’ বা ‘ফেলুদা’র ছবিগুলো বানাতেন না। ওঁর বড়দের ছবিগুলোই ওঁকে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট হত। কিন্তু বলুন তো কোন ছবি আমরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার দেখি? সংলাপ মুখস্থ রাখি? আমি বিশ্বাস করি কোনও কালোত্তীর্ণ ছবি বয়সের গণ্ডি মেনে চলে না, আমার কাজের ভিতটা সেখানেই গাঁথা (হাসি)।
