shono
Advertisement
Census

অ্যান্ড্রয়েড ১২ ছাড়া ডাউনলোড হচ্ছে না জনগণনার অ্যাপ! সরকারের ফোন কেনার 'নিদানে' বেঁকে বসেছেন শিক্ষকরা

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের দেবীনগর এলাকার বিপ্লব কর্মকার নামে এক প্রাথমিক শিক্ষক পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে চিঠি লিখে তথ্য জানার অধিকার আইনে জানতে চান, প্রাথমিক শিক্ষকের ফোন কি সরকারি যন্ত্র? নাকি দপ্তরের সম্পত্তি?
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 01:38 PM Aug 01, 2026Updated: 05:38 PM Aug 01, 2026

অ্যান্ড্রয়েড ১২ ছাড়া ডাউনলোড হচ্ছে না জনগণনার (Census) এইচএলও অ্যাপ। জেলায় জেলায় এই সমস্যায় জেরবার ২০২৭-এর ভারতের জনগণনার কাজে যুক্ত থাকা কর্মীরা। তাই একাধিক জেলায় প্রশাসনের অলিখিত নিদান, কমপক্ষে অ্যান্ড্রয়েড টুয়েলভ বা তার উপরে কনফিগারেশন থাকা মোবাইল কিনতে। আর এই নিদানের পরই জনগণনার কাজে যুক্ত বিভিন্ন শিক্ষকরা বেঁকে বসেছেন। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি কাজ করতে গেলে ডিভাইস দিতে হবে সরকারকেই। এদিকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের দেবীনগর এলাকার বিপ্লব কর্মকার নামে এক প্রাথমিক শিক্ষক পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে চিঠি লিখে তথ্য জানার অধিকার আইনে জানতে চান, প্রাথমিক শিক্ষকের ফোন কি সরকারি যন্ত্র? নাকি দপ্তরের সম্পত্তি? এর সঠিক কোনও উত্তর দিতে পারেনি পর্ষদ। যা এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।

Advertisement

উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সহ-সভাপতি চন্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কোনও সরকারি কর্মী বা বিডিওরা সরকারের কাজ তাদের নিজস্ব ডিভাইসে করেন? ল্যাপটপে যা কাজ করেন তা সরকারের দেওয়া। তাহলে শিক্ষকরা কেন নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল সরকারি কাজে ব্যবহার করবেন ব্যক্তিগত ডেটা খরচ করে? সরকার ডিভাইস না দিলে সরকারের কোন কাজকর্ম শিক্ষকরা করবেন না এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।" এদিকে জনগণনার জন্য এখনও প্রশিক্ষণ চলছে জেলায় জেলায়। ২০২১ -এর আগে যে সকল পুরনো ফোন ছিল তাতে ওই অ্যাপে প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না জনগণনার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। আজ শনিবার ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত স্ব-গননার কাজ চললেও ১৬ই আগস্ট থেকে ১৪ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহ তালিকা প্রস্তুতিকরণ ও গৃহ গণনা রয়েছে। সেখানে ওই অ্যাপেই করতে হবে কাজ। ফলে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন জনগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদেরকে অ্যান্ড্রয়েড টুয়েলভের উপরে থাকা ফোন কেনার নির্দেশ দিয়েছে। আর তাতেই উত্তরবঙ্গের ওই শিক্ষক তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রশ্ন তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অধীন কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন আইন/ নিয়ম/ সরকারি আদেশ অনুযায়ী সরকারি কাজের জন্য সরকারি যন্ত্র বা দপ্তরের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হয় কিনা? এর উত্তর এসেছে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য কোন অফিস ফাইলে মেলেনি।

এছাড়া আরও তিনটি প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি। ওই প্রশ্নগুলি ছিল, কোনও প্রাথমিক শিক্ষক সরকারি কাজের জন্য কোনও ব্যক্তিগত চাকরি সংক্রান্ত তথ্য নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে আপলোড করতে বাধ্য কিনা? যদি হ্যাঁ হয়, তবে সেই সংক্রান্ত নিয়মের কপি দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইলে আধার, ভোটার কার্ড, প্যান, ব্যাঙ্ক ডিটেলস ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য থাকলে তা কোথায় কীভাবে সংরক্ষণ হয়? কে দায়িত্বে এবং কি নিয়ম আছে। এছাড়াও ওই শিক্ষকের চতুর্থ ও শেষ প্রশ্ন ছিল এই ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করার জন্য দপ্তরের কি টেকনিক্যাল বা আইনি সুরক্ষা আছে তার বিবরণ দিন। অন্যান্য তিনটি প্রশ্নের মতো পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ল অফিসার এসএস আলম কোনও উত্তর দিতে পারেননি। এদিকে জনগণনার বিধিতে পরিষ্কার বলা রয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড টুয়েলভের নিচে এইচএলও অ্যাপ সাপোর্ট করবে না। সবে মিলিয়ে শিক্ষকরা বেঁকে বসায় জেলায় জেলায় জনগণনার কাজে সমস্যায় প্রশাসন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement