সুমিত বিশ্বাস ও শেখর চন্দ্র: পুরুলিয়ার ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় পুলিশের সাহায্যে তদন্ত শুরু করল সিআইডি। এর আগেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গঠন করা হয়। এদিকে, নিহতের ধৃত ভাইপোকে জেলা আদালতে তোলা হয়। ধৃতের চোদ্দ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। তবে তাকে পরিকল্পনামাফিক ফাঁসানো হচ্ছে বলেই দাবি ধৃতের মায়ের।
সিআইডি আধিকারিকরা এদিন নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলরের বাড়িতে যান। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী-সহ পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সিআইডি আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার পরেও খুশি নন নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা। তিনি জানান, “সিআইডি হোক বা সিট – যারাই তদন্ত করুন না কেন, প্রধান অভিযুক্ত আইসি তো এখনও ধরা পড়েননি। আমি তদন্তে খুশি নই।”
[আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যেতে বাধা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি টেট উত্তীর্ণদের, রণক্ষেত্র হাজরা মোড়]
খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ঝালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুভাষ গড়াই। পেশায় পুরসভার কর বিভাগের স্থায়ী কর্মী তিনি। এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুভাষ। তিনি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের নামে খুনের অভিযোগ করেন। তবে ওই এফআইআরে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল না। ঘটনার পরেরদিন রাতেই নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা লিখিত অভিযোগ করেন পুলিশ সুপারের কাছে। তাতে তিনি সরাসরি ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষ-সহ ৬ জনের বিরূদ্ধে খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রটিকে এফআইআর হিসেবে গৃহীত করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগ পুলিশ গ্রাহ্য করেনি বলে অভিযোগ। যদিও এফআইআরে নাম থাকা ধৃত দীপক কান্দুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে ধৃত দীপক কান্দুর মা বাবি ছেলেকে নির্দোষ বলেই দাবি করেন। তাঁর দাবি, “ঘটনার সময় ছেলে পুরুলিয়ায় ছিল। স্বামী বাড়ির কাছাকাছি ছিল। দেওর যখন গুলিবিদ্ধ হয় তখন আমার স্বামী দেখতে গিয়েছিল। দু’টি পরিবারে ঘরোয়া বিবাদ ছিল। তবে এরকম জায়গায় যায়নি যে দেওরকে খুন করতে হবে। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।” পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোও আইসি’র বিরুদ্ধে সরব।
এদিকে, তপন কান্দু খুনের প্রতিবাদে পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে আসানসোলের বিএনআর মোড়ে জিটি রোডে ধুন্ধুমার। খুনির শাস্তির দাবিতে রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা। অবরোধের আগে আসানসোলের রবীন্দ্রভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। তারপরেই কংগ্রেস কর্মীরা চৌমাথায় পথ অবরোধ করেন। আসানসোল-বরাকর রুটের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ এবং অবরোধকারীর মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়।
