অজানার হাতছানি! এই নেশাই শংকরকে নিয়ে গিয়েছিল আফ্রিকায়। চাঁদের পাহাড়ের শংকরের 'কীর্তি' পূর্ব মেদিনীপুরের সুজন জানে কি না, তা জানা নেই। কিন্তু রোমাঞ্চের সেই হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারেনি ভূপতিনগরের কিশোর সুজন জানা। সর্বক্ষণের সঙ্গী সাইকেল নিয়েই ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিঘায় হাজির কিশোর।
পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরের বাসিন্দা সুজন জানা। মাধাখালি এলাকায় তাঁর বাড়ি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সে। সমুদ্রের ঢেউ, পূর্ণিমার রাতে ভেসে যাওয়া চরাচর, কুয়াশার মাখা রাতে চুঁইয়ে পড়া জ্যোৎস্না টেনেছিল তাকে!
কাজের চাপে সমুদ্রনগরীতে তাকে নিয়ে যেতে পারেননি বাবা-মা। বাড়িতে বললে স্বাভাবিকভাবেই তাকে একা যাওয়ার অনুমতি দেবেন না অভিভাবকরা তা জানত কিশোর। তাছাড়া দিঘা (Digha) যাওয়ার টাকাওবা কোথায় তার কাছে? তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই সারাক্ষণের সঙ্গী সাইকেল নিয়েই দিঘা পাড়ি দেয় সে।
ছেলের খোঁজ না পেয়ে পাগলদশা হয় পরিবারের সদস্যদের। হন্যে হয়ে তার খোঁজ করতে থাকেন বাবা-মা। নিখোঁজ অভিযোগও জানায়। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে দিঘায় বিশ্ব বাংলা ওয়ান পার্কের সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় সুজনকে। উদ্দেশ্যহীনভাবে বাচ্চা ছেলেটিকে ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ অফ সিভিল ডিফেন্স গ্রিন গার্ড শোভন জানার। তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বালক জানায়, বাড়িতে কাউকে না বলে একা সাইকেল নিয়েই দিঘায় এসেছে সে।
শোভন বলেন, "ভূপতিনগর থানার মাধাখালি এলাকার বাসিন্দা সুরজিৎ জানার ছেলে সুজিত কাউকে না জানিয়ে দিঘায় (Digha) আসে। ছেলেটিকে দেখে সন্দেহ হয়। জেরা করতেই বাড়ি থেকে একা এসেছে বলে জানায়।" সুজনকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছেই রাখা হয়। খবর দেওয়া হয় বাড়ির লোকদের। রাতেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে।
