রাজ্য-রাষ্ট্রপতি সংঘাতের মাঝে শিলিগুড়ির সিপি ও দার্জিলিংয়ের জেলাশাসককে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। সিপি সি সুধাকর ও জেশাশসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্র। সূত্র মারফত খবর, এনিয়ে নবান্নের কাছে চিঠি এসেছে। আলোচনা শুরু করেছে রাজ্য। এ বিষয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছেন, "এ বিষয়ে যা বলার রাজ্য বলবে।"
ঘটনার সূত্রপাত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে। একটি বেসরকারি সংস্থার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিনে উত্তরবঙ্গে আসেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। সেই অনুষ্ঠানের সভাস্থল বদল ও প্রোটোকল ভাঙা নিয়ে জলঘোলা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যা নিয়ে উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রিপোর্টও তলব করে। সেই ঘটনার পরই পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসককে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। তাঁদের ছাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই খবর।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভার স্থল নির্ধারিত হয়। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ওখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো। ওখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন।
এই মন্তব্যের পরই দেশের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগে। পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে ব্যবহার করে রাজনীতির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি দুঃখিত কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে।" সেই ঘটনার পর এবার ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা শিলিগুড়ির সিপি ও দার্জিলিঙের জেলাশাসককে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র।
