shono
Advertisement
Ghatal Master Plan

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আরও একধাপ, বর্ষা শেষ হলেই শুরু হবে কাজ, ঘোষণা সেচমন্ত্রীর

রবিবার ঘাটাল টাউন হলে প্রাক-বন্যা পরিস্থিতি ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক হয়।
Published By: Kousik SinhaPosted: 12:52 PM Jul 06, 2026Updated: 02:09 PM Jul 06, 2026

বন্যায় কার্যত জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয় ঘাটাল মহকুমার লক্ষাধিক মানুষকে। বর্ষা এলেই নদীর জল উপচে পড়ে গ্রাম, চাষের জমি, রাস্তায়। সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসাবে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নে এবার আরও একধাপ এগোল রাজ্য প্রশাসন। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষ হলেই শুরু হবে প্রকল্পের মূল পর্বের কাজ। রবিবার ঘাটাল টাউন হলে প্রাক-বন্যা পরিস্থিতি ও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, ইরিগেশন বিভাগের মুখ্য সচিব রাজেশকুমার সিনহা, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা প্রমুখ। বৈঠকের শুরুতেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার নদীবিধৌত ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবছরের জলাবদ্ধতার সমস্যাকে সামনে রেখে কীভাবে দ্রুত ত্রাণ, খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

Advertisement

বৈঠকে উপস্থিত বিধায়করা নিজ নিজ এলাকার নদীভাঙন, জল নিকাশি, বাঁধের দুরবস্থা ও বন্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা সেই সমস্ত বিষয় নথিভুক্ত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

রাজেশকুমার সিনহা বলেন, "ভৌগোলিক কারণে ঘাটালে জল জমা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনের প্রস্তুতি এমন হতে হবে, যাতে দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়। সেই লক্ষ্যে সমস্ত দপ্তরকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" এদিন সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস বলেন, "বর্তমান রাজ্য সরকার প্রকল্পের জন্য ১,২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, প্রকল্পের অন্তর্গত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুইস গেটের সংস্কার ও মেরামতের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে বর্ষার সময় বড় ধরনের নির্মাণকাজ সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হলেই নদী সংস্কার, বাঁধ মজবুতকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন-সহ প্রকল্পের মূল কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে। বৈঠকে আরও জানানো হয়, বিশেষজ্ঞদের তৈরি মূল ডিপিআর-এ বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে কিছু সংশোধন করা হয়েছে। কোথাও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কোথাও নকশায় সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বিধায়করা নিজ নিজ এলাকার নদীভাঙন, জল নিকাশি, বাঁধের দুরবস্থা ও বন্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা সেই সমস্ত বিষয় নথিভুক্ত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিকে, বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী-সহ সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল এদিন ঘাটালের বিভিন্ন নদী বাঁধ, সুইস গেট ও সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কোথায় কী ধরনের কাজ জরুরি এবং বর্ষার পরে কোন এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু হবে, তা খতিয়ে দেখা হয়। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement