নেশামুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়ে ২ লক্ষ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আজ, সোমবার প্রথমবার বালুরঘাট সফরে গিয়েছেন তিনি। আর সেখানেই অর্থাৎ বালুরঘাট পুলিশ সুপার অফিসের সামনে নিজে রোড রোলার চালিয়ে লক্ষ লক্ষ নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ধ্বংস করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গী ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। শুধু নিষিদ্ধ নেশা জাতীয় সিরাপ ধ্বংস করাই নয়, ডাক দিলেন নেশামুক্ত বাংলা গড়ারও। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ''পশ্চিমবঙ্গকেও নেশামুক্ত করা হবে। যেখানেই এমন ড্রাগ পাওয়া যাবে তা ধ্বংস করা হবে।'' এমনকী এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কারবারি কাউকে ছাড়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, গত কয়েকমাসে ব্যাপকভাবে নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশ বর্ডার। সেখানে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।'' তাঁর কথায়, ''আগে পুলিশ এবং বিএসএফের মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না। বিএসএফ মানে শত্রুপক্ষ ভাবানো হতো। কিন্তু এই চার মাসে বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অপারেশন চালায়। সেই অভিযানেই বিপুল নেশাদ্রব্য উদ্ধার হয়। আজ সেগুলিকে বাজেয়াপ্ত করা হল।'' তবে এহেন অভিযান যে আগামিদিনেও চলবে তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ''নেশাদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং ধ্বংস করা হবে। যারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে তাঁদেরকেও বছরের পর বছর জেলে থাকতে হবে।''
কিন্তু বিপুল এই নিষিদ্ধ সিরাপ কথা থেকে এল? এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিপুল এই নেশার সিরাপ বাংলাদেশে পাচার হচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই তা ব্যর্থ হয়। এজন্য জেলা পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে এদিন বালুরঘাটে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। যেমন সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী। তেমনই প্রশাসনিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে তাঁর। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ও বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে যেসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলি নিয়ে একটি রিভিউ মিটিং হবে। সেখানেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
