জয়েন্ট এন্ট্রান্সে উত্তীর্ণ হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার সামান্য আয়ে সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মাঝপথেই থেমে যায় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন। তবে হার মানেননি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার ধারাপাড়ার চিরঞ্জিৎ। পরিশ্রমের জোরে সেই তরুণই আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দিলেন।
বাবা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় একটি বেসরকারি হিমঘরে জেনারেটরম্যানের কাজ করতেন। সীমিত আয়ের মধ্যেই সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়েছে তাঁকে। চিরঞ্জিৎ ২০১৩ সালে গুসকরা পি পি ইনস্টিটিউশন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ওই বছরই জয়েন্ট এন্ট্রান্সে উত্তীর্ণ হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বন্দ্যোপাধ্যায়।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর লেফটেন্যান্ট চিরঞ্জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বছরের কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর ভর্তি হন তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দু'বছর পড়ার পর আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হাবিলদার পদে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। চাকরির পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে এসএসবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। চার লেফটেন্যান্ট পদে উত্তীর্ণ হন চিরঞ্জিৎ। বর্তমানে তিনি শিখ রেজিমেন্টের একজন সেনা আধিকারিক। চিরঞ্জিৎ বলেন, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে হয়তো অন্য কোনও উচ্চপদে চাকরি করতে পারতেন, কিন্তু আর্থিক কারণে সেই পথে বাধা এলেও তিনি সেটাকে ব্যর্থতা হিসাবে নেননি। বরং জীবনের শিক্ষা হিসাবে গ্রহণ করে এগিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ফলেই আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন।
