বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন সংস্কার নিয়ে বিতর্ক! 'পূর্বিতা' আধুনিকরণে প্রায় দেড় কোটি টাকা বেশি খরচের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সমস্যা রয়েছে। সেগুলি না কাটিয়ে এত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই জল গড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত। চিঠি গিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশির কাছে। বিশ্বভারতীর পরিদর্শক তথা রাষ্ট্রপতি ও আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী -সহ রাজ্যে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইমেল মারফত চিঠি দিয়েছেন, তপশিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু ফোরাম। কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, "শিক্ষার মান উন্নয়নে খরচ না করে উপাচার্যের বাসভবন সংস্কারের এত কোটি টাকা খরচ!"
এরপরই শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি খোলসা করেছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, "পূর্বতন উপাচার্যদের আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই খাতে ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ এসেছে। কেন্দ্রীয় পূর্তদপ্তরে এই টাকা দীর্ঘদিন পড়েছিল। আমি শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে প্রশাসনিক অনুমতি দিয়েছি মাত্র।"
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে গড়ে ওঠা 'হেরিটেজ' বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসের পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দাবি, ক্যাম্পাসে নিকাশি ব্যবস্থা থেকে বেহাল ছাত্রাবাস। পানীয় জলের অব্যবস্থা, স্যানিটেশন, ক্যান্টিনে খাবারের মান ঠিক নয়! তবে কেন্দ্র সরকারের পূর্তবিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাসভবন সংস্কারের জন্য। বাসভবন সংস্কার ও আধুনিকীকরণের জন্য মোট খরচ হয়েছে ৭৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্র, পর্দা, এয়ারকন্ডিশনের জন্য খরচ হয়েছে মোট ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা। সিনিয়র অফিসার কোয়াটার, সীমানা প্রাচীর ও আধুনিক রান্নাঘরের জন্য মোট খরচ ৪২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। এ ছাড়াও একাধিক খাতে খরচ হয়েছে।
এরপরই বিষয়টি এ দিন মুখ খোলেন বর্তমান উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তিনি বলেন, "২০১৯ সালে এই খাতে ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা এসেছে। কেন্দ্রীয় পূর্তদপ্তরে এই টাকা দীর্ঘদিন পড়েছিল। আমি শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে প্রশাসনিক অনুমতি দিয়েছি মাত্র। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দুর্নাম করতেই এমন কর্মকাণ্ড। বিশ্বভারতীর সামগ্রিক উন্নয়ন একটা অংশে চাই না। আমি যতদিন আছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যাব।"
