Advertisement

ফোন করলেই পাড়ায় মিলবে অক্সিজেন, করোনা মোকাবিলায় জেলায় তৈরি হচ্ছে ফিল্ড হাসপাতাল

02:54 PM May 07, 2021 |
Advertisement
Advertisement

অভিরূপ দাস: প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে শহরে রোগী নিয়ে আসার ঝক্কি অনেক। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুর্বল ফুসফুস। SARS-Cov-2 ভাইরাসের মোকাবিলায় এবার তাই নয়া রণকৌশল নিয়েছেন চিকিৎসকদের। গ্রামেই তৈরি হবে ফিল্ড হাসপাতাল। অসুস্থ করোনা রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসক দেওয়া হবে সেখানেই। প্রয়োজন হলে তবেই তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে। নয়া এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন গ্রামাঞ্চলের রোগীদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরানো যাবে, তেমনই কাজে লাগানো যাবে গ্রামীণ চিকিৎসকদেরও। বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘সংবাদ প্রতিদিন’ প্রেসক্রিপশন এবং JIS গ্রুপের যৌথ ওয়েবিনারে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন ডা. অভিজিৎ চৌধুরী।

Advertisement

করোনা (Coronavirus) অতিমারিকে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্স বা আইআইএলডিএস এই ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করতে নেমেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে বীরভূমের লাভপুরে। ধীরে ধীরে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া-সহ জঙ্গলমহল এবং দুই ২৪ পরগনাতেও তৈরি হবে এই ধরনের হাসপাতাল। আইআইএলডিএস এর কর্ণধার ডা. অভিজিৎ চৌধুরীর কথায়, প্রতিটি হাসপাতালে থাকবে ২০ টি বেড। প্রতিটি বেডের সঙ্গে থাকবে অক্সিজেন (Oxygen) দেওয়ার ব্যবস্থা। এই হাসপাতালগুলোয় গ্রামীণ চিকিৎসকদের প্রাথমিক চিকিৎসার কাজে লাগানো হবে। থাকবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীরাও। গ্রামীণ চিকিৎসকদের সমস্ত প্রশিক্ষণ দেবেন শহরের কোভিড বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

[আরও পড়ুন: দুয়ারে অক্সিজেন! পিছিয়ে পড়া গ্রামে ‘শ্বাসবায়ু’ পৌঁছে দিচ্ছেন আসানসোলের চন্দ্রশেখর]

বিশ্বযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ সৈনিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হতো ফিল্ড হাসপাতালে। পরবর্তীতে তাঁদের কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো। আর আজকের দিনে মারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বলছেন চিকিৎসকরা। কোভিড পজিটিভ অনেক রোগী প্রাথমিক অবস্থায় অত্যন্ত সংকটজনক রূপে হাসপাতালে আসছেন। এই ধরনের হাসপাতালে এনে তাঁদের দ্রুত স্থিতিশীল করা যাবে। শুধু যুদ্ধকালীন পরিষেবা দেওয়ার হাসপাতালই নয়, অক্সিজেন এবার পৌঁছে যাবে বাড়ি বাড়ি, চাকায় ভর করে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডায়জেস্টিভ সায়েন্স এর তরফে নয়া পরিষেবা “অক্সিজেন অন হুইলস” এর উদ্বোধন হচ্ছে আজ শুক্রবার। এই পরিষেবায় একটি হেল্প লাইন নম্বর থাকবে। সেই নম্বরে ফোন ঘোরালেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে অক্সিজেন। এই পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজন ছিল অগুনতি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের। ডা. অভিজিৎ চৌধুরীর কথায়, বিদেশ বিভুঁইয়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রবাসী বাঙালি বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংস্থাও এগিয়ে এসেছে সাহায্য করতে। ইতিমধ্যেই ১০০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর জোগাড় হয়ে গিয়েছে। করোনা রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে যা ছুটবে পাড়ায় পাড়ায়।

এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ডা. অরিন্দম বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্যে অক্সিজেনের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। যাঁদের কাছে অতিরিক্ত অক্সিজেন রয়েছে অবিলম্বে তাঁদের অন্যকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করতে হবে। বৃহস্পতিবার ‘সংবাদ প্রতিদিন’ এবং JIS গ্রুপের তরফে “কোমর বেঁধে কোভিড তরঙ্গের মোকাবিলা” শীর্ষক এক আলোচনার সভায় ডা. অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ”কোভিড টেস্ট করতে দোনামোনা করবেন না। ১০ বার নেগেটিভ এলেও একাদশতম বার টেস্ট করান।” এদিন ভ্যাকসিনের পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন সকল চিকিৎসক। দ্রুত দেশের মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ডা. কুণাল সরকার। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা ডা. সরকারের আবেদন, ”আগামী একটা মাস অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বেরবেন না।” তাঁর কথায়, ”কলকাতার কোন এলাকায় ঠিক কতটা সংক্রমণ, তা নিয়ে বিস্তারিত জানা নেই কারও। এই মুহূর্তে তাই সঠিক কাজ হবে অন্য পাড়ায় গিয়ে আড্ডা, গল্প বন্ধ রাখা।”

[আরও পড়ুন: কোথায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেশি? দিনভর অশান্ত এলাকায় ঘুরল কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল]

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ঢেউতে অল্পবয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা মনে ভ্যাকসিন না মেলাতেই তাঁদের অবস্থা আরও সংকটজনক হচ্ছে। শুধুমাত্র এ রাজ্য নয়, দেশেও সংক্রমণ বাড়ছে প্রতিদিন। অধ্যাপক অজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, সারা পৃথিবীতে যতো করোনা রোগী রয়েছেন তাঁর অর্ধেক এ দেশের। এই পরিসংখ্যান মারাত্মক ভয়ের। শুধু একবার নয় করোনা ভ্যাকসিনও প্রত্যেক বছর নিতে হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। এদিকে এদিনের অনুষ্ঠানে লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করেছেন চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে লোকাল ট্রেন। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডা. সরকার বলেছেন, সীমিত সময়ের লকডাউন ছাড়া করোনা পরিস্থিতি থেকে বেরনো সম্ভব নয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধিকাংশ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁরাও করোনার আক্রমণ থেকে বাদ যাননি, তবে শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণেই বেঁচে গিয়েছেন। ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকারের বক্তব্য, অনেকে ভাবছেন আমার একবার করোনা হয়ে গিয়েছে আর হবে না। এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। এই ইমিউনিটি কতদিন থাকবে কেউ জানে না। কিন্তু ভ্যাকসিন থেকে যে ইমিউনিটি পাওয়া যাবে তা ভ্রান্ত নয়। সেটা প্রেডিক্টেবল ইমিউনিটি। এদিনের অনুষ্ঠানে ডা. অভিজিৎ চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডা. কুণাল সরকার, ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকার, ডা. অরিন্দম বিশ্বাস এবং JIS গ্রুপের তরফে প্রফেসর অজয় কুমার রায়।

Advertisement
Next