নির্মাণের কয়েকঘণ্টার মধ্যে উধাও রাস্তা! পথশ্রী প্রকল্পে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই মতো নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত কংক্রিটের মশলা ঢেলেও দেওয়া হয়েছিল। আর সেই কাজ চলাকালীন হঠাৎ ঠিকাদারের লোকজনের কাছে রহস্যজনক ফোন! তারপরেই একেবারে মাপ নিয়ে প্রায় ২০ মিটার অংশের ঢালাই মশলা আবার রাস্তা থেকে তুলেও নেওয়া হল। সরকারি প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণের কাজে ঢালাইয়ের মশলা ফেলেও তা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতু্গ্রামে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযোগ উঠছে, ওই এলাকার মানুষ বিজেপি করেন। আর সেই কারণেই রাস্তা ঢালাই করার পরেও তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকী শাসকদলের নির্দেশেই নাকি এই কাজ বলেও অভিযোগ।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কেতুগ্রামের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁকুরহাটি গ্রামের। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তা তৈরির মশলা ফেলেও তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রকাশ্যে আসা ভিডিও'র সত্যতা যাচাই করে দেখেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। বলে রাখা প্রয়োজন, নবগ্রাম পঞ্চায়েতের ২৫১ নম্বর সংসদে মোট ভোটার সংখ্যা ১০৫০ জন। বিগত লোকসভা নির্বাচনে কাঁকুরহাটি গ্রামের ওই বুথে বিজেপি শাসকদলের থেকে ৩৫ ভোটে এগিয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিজেপি করার জন্যই তাঁদের বাড়ির সামনের অংশে ঢালাই মশলা ঢালার পরেও শাসকদলের চাপে ঠিকাদারের লোকজন ওই মশলা তুলে নিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের বাড়ির সামনের অংশে আর রাস্তার কাজ করেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ভবানী ঘোষ, মানবী ঘোষদের অভিযোগ, " আমাদের বাড়ির লোকজন বিজেপি করেন। তাই সরকারি কাজে শাসকদল এই দ্বিচারিতা করেছে।" স্থানীয় বধূ প্রিয়াঙ্কা ঘোষ, তনুশ্রী ঘোষরা বলেন, "রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ায় আমাদের বেশ কয়েকটি পরিবারকে সমস্যার মধ্যে রেখে দেওয়া হল।"
অর্ধেক তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে রাস্তা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পথশ্রী প্রকল্পে ১,১২, ৫৫০ টাকা ব্যয়ে কাঁকুরহাটি গ্রামের গলিপাড়ায় ৭০ মিটার ঢালাই রাস্তা নির্মাণের জন্য সম্প্রতি টেন্ডার হয়। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, ৭০ মিটার অংশেই প্রথমে কাজ শুরু হয়। এরপর ২০ মিটার বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও নবগ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য খোকন থান্দারের দাবি, " ৫০ মিটার অংশ ঢালাই করার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তাই ৫০ মিটার করা হয়েছে। যদি এনিয়ে বিতর্ক হয় তাহলে পরে বাকি অংশের কাজ করে দেওয়া হবে।"
