নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক প্রৌঢ়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য। পরিবারের অভিযোগ, মারধর এবং অত্যাচার করা হয়েছে। তার জেরেই এই মৃত্যু। হাবড়ার বদরহাট এলাকার এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানাতেই মালিক-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম রাহুল দাস, আমিরুল মন্ডল, বিশ্বজিত শীল, মিলন ঘোষ, শান্তনু দাস, দেবব্রত চন্দ্র এবং বিক্রমজিৎ দাস। আজ শুক্রবার তাদের বারাসত আদালতে পেশ করা হলে দেবব্রত এবং বিক্রমজিতকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজত ও বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ (৫৪)। তিনি হাবরা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গনদীপায়ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মাত্রাতিরিক্ত নেশায় আসক্ত হওয়ায় তাঁকে গত ২০ জানুয়ারি হাবরার বামিহাটি এলাকার একটি বেসরকারি নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, পরিবারকে কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে নেশামুক্তি কেন্দ্রের কয়েকজন মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে আসেন হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।
খবর পেয়ে পরে পরিবার লোকজন তড়িঘড়ি হাসপাতালে আসলেও জানতে পারে চিকিৎসক মৃত্যুঞ্জয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেছে। অস্বাভাবিক এই মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের লোকজন ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চায়। প্রথমে কতৃপক্ষ সেটা দেখতে রাজি না হওয়ায় তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে। শেষে অবশ্য পরিবারের চাপে সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হয়।
পরিবারের দাবি, ফুটেজে দেখা গিয়েছে মৃত্যুঞ্জয়ের পায়ে গামছা বেঁধে রাখা হয়েছিল। মুখে গোঁজা ছিল কাপড়। শুধু তাই নয়, গলায় আরেকটি গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় রয়েছে। এরপরেই বৃহস্পতিবার রাতের মৃতের পরিবার হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক সাত জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে মৃতের দাদা বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, "ওনারা বলেছেন, ভাই সকাল থেকে নাকি অসুস্থ। কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। দুপুরে আমাদের কিছু না জানিয়েই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সন্দেহ হলে নেশামুক্তি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখি। তাতে ভাইকে অত্যাচারের ছবিও ধরা পড়েছে।" পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখে এবং ধৃতদের জেরা করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
