জেলার একের পর এক পুরসভার কাউন্সিলরদের গণইস্তফার পর উত্তর ২৪ পরগনার ২৫টি পুরসভার জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করল জেলা প্রশাসন। উন্নয়নমূলক কাজ, নাগরিক পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পুরসভার জন্য তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া। শুক্রবার জারি হওয়া এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কমিটিতে থাকবেন একজন জেলা-স্তরের আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ফিনান্স অফিসার। বনগাঁ থেকে টাকি, বারাসত থেকে বারাকপুর— জেলার সব পুরসভাই এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, নাগরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু-সহ ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বেআইনি নির্মাণ ও জমি দখল রোধ, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের মতো বিষয়গুলি নিয়মিত খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও করা যাবে।
পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও করা যাবে। এনিয়ে জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া বলেন, “মূলত সুপারভিশনের জন্যই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পুরসভাগুলিতে যেখানে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। যেসব জায়গায় এক্সিকিউটিভ অফিসাররা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না, সেখানে তাঁদের সুপারভাইজ ও অ্যাসিস্ট করা হবে।” নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থ, নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে তাঁদের বৈঠকেও আমন্ত্রণ জানানো যাবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থ, নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে তাঁদের বৈঠকেও আমন্ত্রণ জানানো যাবে।
ইতিমধ্যেই কাঁচড়াপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া এবং গাড়ুলিয়া পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যান্য পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, “সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দপ্তরের। দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ীই জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ করে।” সাম্প্রতিক সময়ে জেলার একাধিক পুরসভায় তৈরি হওয়া প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার আবহে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। নতুন ব্যবস্থার ফলে পুর প্রশাসনের কাজকর্মের উপর জেলাস্তরের তদারকি ও জবাবদিহি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
