দীর্ঘদিন ধরে তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith Temple) দান ও তহবিলের টাকা নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কে জমা না হওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছিল। কয়েকদিন আগে এক ধাক্কায় মন্দির কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা পড়ে। এই নিয়ে শুরু হয় চর্চা। তাই মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবগঠিত তারাপীঠ মন্দির কমিটি। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতিদিন মন্দিরে জমা হওয়া দান ও তহবিলের অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে সেই অর্থ জমা করা হবে। পাশাপাশি মন্দিরের বিভিন্ন তহবিলের জন্য পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হবে, যাতে প্রতিটি খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
এছাড়াও মন্দিরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ পরিচালনার জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে থাকা মন্দির কমিটির অফিস নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির দাবি, ভবিষ্যতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচ নগদে মেটানো হলেও বড় অঙ্কের সমস্ত অর্থের লেনদেন শুধুমাত্র চেকের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের নথিভুক্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিতর্ক বা জল্পনার সুযোগ থাকবে না।
উল্লেখ্য, তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith Temple) তহবিলের অর্থ সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অভিযোগ, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে মন্দিরে জমা হওয়া দানের টাকা নিয়মিতভাবে ব্যাঙ্কে জমা করা হচ্ছিল না। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারাপীঠ মন্দিরে নতুন কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হয়েছেন সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু করেছে।
মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এবার থেকে প্রতিদিনের আয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাঙ্কে জমা করা হবে। বিভিন্ন তহবিলের টাকা আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরের কর্মদিবসে টাকা জমা হবে। প্রায় ১৫ বছর আগে এই নিয়ম চালু ছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং ডিজিটাল লেনদেনও শুরু করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। সেইমতো অসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকা মন্দিরের অফিস তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”
