আগামী মাসেই বাংলায় নির্বাচন। ইতিমধ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এর মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার রামনবমী (Ram Navami)। সকাল থেকে হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শোভাযাত্রা বের হতে শুরু করেছে। আর তা ঘিরে কোনওরকম অশান্তি এড়াতে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন থাকছে বিশাল সংখ্যক পুলিশবাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। রামনবমী নিয়ে সতর্ক নির্বাচন কমিশনও। সূত্রের খবর, গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
বুধবার নবান্নে রামনবমী (Ram Navami) নিয়ে সমস্ত জেলার ডিএম, এসপি, সিপি-দের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ উচ্চপদস্থ আমলারা। ভিডিও কনফারেন্সে এই বৈঠক হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, মিছিলে অশান্তি যাতে না হয়, তার জন্য পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্পর্শকাতর তিনটি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। জানা গিয়েছে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোতায়েন করা হয়েছে এইক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, মালদহে এক কোম্পানি বাহিনী। এছাড়াও হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় এক কোম্পানি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় টহল দিচ্ছে।
শুধু জেলাতেই নয়, রামনবমী উপলক্ষে কলকাতাতেও হাজারখানেক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, রামনবমীতে কলকাতায় প্রায় ৬০টি মিছিল বেরবে। তার মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস, কাশীপুর থেকে। প্রত্যেকটি মিছিলেই থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। রামনবমীর মিছিলে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের শরীরে ‘প্রোটেকটিভ গিয়ার’ থাকবে। যদি কেউ ইট বা বোতল নিয়ে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গেই যেন পুলিশ এগিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
মিছিলগুলির উপর আকাশপথে নজর রাখবে ড্রোন। মিছিলের আগে ও পরে হাঁটবে পুলিশ। থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের গাড়িও। আশপাশের রাস্তাগুলিতে থাকবে পুলিশের টহলদার গাড়ি। প্রত্যেকটি মিছিলের রুট, বিশেষ করে বড় মিছিলের রুটে থাকবে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সিসিটিভি মনিটরে নজর রাখবে পুলিশ। এ ছাড়াও পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পোশাকের সঙ্গে বডি ক্যামেরাও থাকবে।
