চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: জাতীয় প্রচারে বলা হয় ‘সানডে ইয়া মনডে রোজ খাও আন্ডে’। অর্থাৎ, প্রত্যেকদিনেই ডিম খাওয়া পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পোলট্রি ডিমের যা দাম, তাতে রোজ ডিম আর পাতে উঠছে না বাঙালির। শুধু গৃহস্থ নয়, স্কুলের মিড ডে মিলের সাপ্তাহিক তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে ডিম। যাদের বেশি ডিম লাগে তাদের কাছে তুলনায় পোলট্রি মুরগির দাম পড়ছে কম। ডিম মহার্ঘ। তাই স্কুলের মিড ডে মিলের তালিকায় বাদ গেল ডিম, আর তার জায়গায় যোগ হল মুরগির মাংস। স্বাদ বদলের এই ছবি আসানসোলের বার্নপুরে।
[কাঠের সেতু পেরোতে ‘নজরানা’ ১০ টাকা! ক্ষোভে ফুঁসছে কালিন্দ্রীপাড়ের গ্রাম]
স্কুলের মিড ডে মিলে বেশিরভাগ সময়ই মেলে ভাত-ডাল-সোয়াবিনের তরকারি। শীতে কখনও হয়তো সবজি বা খিচুড়ি। একটু অন্যরকম বলতে সপ্তাহন্তে ডিম। কিন্তু তার দাম বেড়ে যাওয়ায় মাস খানেক আগে থেকেই মিড ডে মিলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ডিম সেদ্ধ বা কারি। এই অবস্থায় হিসেব-নিকেশ করে স্কুলের শিক্ষকরা মিড ডে মিলের সাপ্তাহিক তালিকায় এনেছেন চিকেন বা মুরগির মাংস। সপ্তাহ শেষে শনিবার বার্নপুর নরসিংবাঁধ বীণআপানি প্রাইমারি স্কুলে কচিকাঁচাদের পাতে পড়ল মাংস ভাত। চেটে পুটে খেয়ে খুদেদের চোখে-মুখে তখন এক অদ্ভুত তৃপ্তির আমেজ।
[শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী না ফেরায় অভিমানে আত্মঘাতী স্বামী]
আসানসোল পুরনিগমের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরবন সাউ নরসিংবাঁধ স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি। তিনিই উদ্যোগ নিয়ে মিড ডে মিলে চিকেন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। এখন বাজারে পোল্ট্রি ডিমের দাম ৭ টাকা। স্কুলের ১৫০ জন পড়ুয়া রয়েছে। অর্থাৎ ডিমের দাম পড়ে যাচ্ছে হাজার পঞ্চাশ টাকা। সেখানে ৬ থেকে ৭ কেজি চিকেন আনলেই সমস্যা মিটে যায়। যার দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার কিছু বেশি। তাই গড়পড়তা ডিমের থেকে চিকেনই সস্তা। চিকেনকারি হওয়ায় যেমন পড়ুয়াদের মুখে স্বাদ বদলও হলো আবার খাবারের মান বাড়ল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অংশুমান রায় বলেন, মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে মাঝে মধ্যেই নানা অভিযোগ ওঠে। ফলে স্কুলগুলিতে কমছিল মিড ডে মিলে খাওয়ার প্রবণতা। সেই ছবি বদলাতে এই তৎপরতা কাজে লাগবে। মিড ডে মিলে প্লেট প্রতি সরকারি বাজেট ৪টাকা ২৩ পয়সা। এই টাকার মধ্যে তেল মশলাও ধরে নেওয়া হয়। তাই মেনু থেকে ডিম বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এক অভিভাবক জানান, স্কুলে মাংস-ভাত হওয়ায় ছেলেপুলেরা স্কুল কামাই করতে চাইছে না। কাউন্সিলর বলেন, চিকেনকারি হওয়ায় আরও একটি সুবিধা হয়েছে। ডিম সেদ্ধ করলে ডাল-সহ একটা তরকারি করতেই হত। কিন্তু চিকেনে আলু পড়ে গেলে ডাল বা তরকারি লাগে না। খরচও কম। সেই বাড়তি টাকা দিয়ে বোঁদে বা মিষ্টির আইটেমও ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে একটু পরিকল্পনা করলেই মিড ডে মিলই মহাভোজে পরিনত হয়। যাদের জন্য এমন আয়োজন তারা কী বলছে? দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র টিঙ্কু শর্মার কথায়, আজ খুব মজা হয়েছে। এরকম মজা যেন আবার হয়।
The post দামের ছেঁকায় বাদ ডিম, মিড-ডে মিলে পড়ুয়ারা পেল চিকেন appeared first on Sangbad Pratidin.
