সাতসকালে বেজায় বিপত্তি! সপ্তাহের প্রথম দিন কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) করোলাভ্যালি চা বাগানের কর্মীরা। সে এক হুলুস্থুল কাণ্ড! বাগানের মাঝে গর্তে পড়ে কাতরাচ্ছে গজরাজ! সোমবার এই দৃশ্য দেখে কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। হাতির এহেন দশায় কেউ কেউ আহা-উঁহুও করলেন। কিন্তু উদ্ধারের উপায় কী? বাগানের কর্মীরাই খবর দেন বনদপ্তরে। বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের কর্মীরা পৌঁছন। ক্রেনের সাহায্যে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়। গর্ত থেকে মুক্তি পেয়ে ছুটে পালাল হাতিটি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন চা বাগানের শ্রমিকরাও।
করোলাভ্যালি চা বাগানে হাতির আতঙ্ক। নিজস্ব ছবি
সোমবার সকালে জলপাইগুড়ির ((Jalpaiguri) করোলাভ্যালি চা বাগান একেবারে সরগরম। কাজে গিয়েও কাজ করতে পারছেন না শ্রমিকরা। আতঙ্কের নাম হাতি। একটি হাতি বাগানের মাঝের গর্তে পড়ে গিয়ে কাতরাচ্ছে। তার ধারেকাছে যেতেও সাহস হচ্ছে না কারও। সকলে ভয়ে ছুটোছুটি করছেন। জানা যাচ্ছে, রবিবার শেষ রাতের দিকে তিনটি হাতির দল বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে তিস্তার গা ঘেঁষে থাকা বাজিতপাড়া হয়ে ঢুকেছিল বাগানে। তাদের মধ্যে দু'জন আবার জঙ্গলে ফিরে গেলেও একটি ছোট দাঁতাল ছুটতে গিয়ে পড়ে যায় এই গর্তে। তখন থেকেই সে আটকে ছিল। নিজে নিজে উঠতে না পেরে ছটফট করছিল। মাঝেমাঝেই ডেকে উঠছিল। আতঙ্কে বাগানে কাজ শুরু করতে পারছিলেন না কর্মীরা।
দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় গর্ত থেকে উদ্ধার হয় হাতিটি। নিজস্ব ছবি
এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে খবর পাঠানো হয় বনদপ্তরে। বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মী ছাড়াও গরুমারা ও জলপাইগুড়ি বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। ক্রেনের সাহায্যে হাতিটিকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় গর্ত থেকে উপরে উঠতে সক্ষম হয় ছোট হাতিটি। আর গর্ত থেকে মুক্তি পেয়েই দলের খোঁজে দে ছুট! এখন বনবিভাগের কাজ, তিনটি হাতিকে একত্রিত করার। হাতির দাপাদাপির জেরে বাগান জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ। কোনওরকম বিপদ এড়াতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে বনদপ্তর।
