সঞ্জীব দত্ত, শিলিগুড়ি: দিন কয়েক আগের ঘটনা৷ গভীর রাতে তিন দাঁতাল হাতি ঢুকে পড়েছিল কালিম্পংয়ের বনবসতিতে৷ হাতির তাণ্ডবে ভেঙেছিল সাত-সাতটি বাড়ি৷ তছনছ হয়ে গিয়েছিল ভুট্টাক্ষেত, কলাবাগান৷ হাতির উপদ্রব ঠেকাতে বনদপ্তর কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন বনবসতির বাসিন্দারা৷ কিন্তু, ঘটনা হল, উত্তরবঙ্গে হাতির সংখ্যা কমেছে৷ বনদপ্তরের সমীক্ষায় অন্তত তেমন ইঙ্গিত মিলেছে৷ বনকর্তাদের দাবি, বছর চারেক আগে যখন শেষবার সমীক্ষা করা হয়েছিল, তখন হাতির সংখ্যা ছিল ৫৯০টি৷ আর এখন উত্তরবঙ্গে হাতি রয়েছে ৪৮৮টি৷ অর্থাৎ ১০২টি কম! বিশেষজ্ঞদের অবশ্য দাবি, উত্তরবঙ্গে হাতির সংখ্যা আদৌও কমেনি৷ বরং বেশ কয়েকটি হাতি জঙ্গলে বাইরে চলে গিয়েছে৷ সেই হিসেব ধরলে হাতির সংখ্যার বিশেষ হেরফের ঘটেনি৷
[যাত্রী সেজে গাড়ি লুটের চেষ্টা, বর্ধমান যাওয়ার পথে চালককে খুন ৪ দুষ্কৃতীর]
পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘেরা উত্তরবঙ্গ৷ হাতি তো নয়ই, জঙ্গলে বন্যজন্তুর অভাব নেই৷ মাঝেমাঝে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় গজরাজ৷ হাতির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় লোকালয়৷ এমনকী, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে৷ তাই হাতি সংখ্যা কমা নিয়ে ধন্দে খোদ বনকর্তারাই৷ হস্তি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, হাতি কথনও এক জায়গায় থাকে না৷ খাবারে সন্ধানে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়৷ উত্তরবঙ্গের হাতি চলে যায় অসম, ভুটান, এমনকী, নেপালেও৷ বিভিন্ন জঙ্গলে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায কমপক্ষে ১০০টি হাতি৷ সমীক্ষা চলাকালীন তেমনটাই ঘটেছে৷ ওই হাতিগুলি গণনার বাইরে থেকে গিয়েছে৷ দক্ষিণবঙ্গে আবার দীর্ঘদিন হাতির গণনাই হয়নি৷ তাই হাতির সংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য বনপাল মানারাম বালুচ জানিয়েছেন, ‘ভারত-নেপাল সীমান্তে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দিয়েছে বনদপ্তর। তাই আগের মতো আর সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে যেতে পারছে না হাতির দল৷ তবে যেখানে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া নেই, সেখানে হাতির অবাধ গতি৷ তাই ডিরেক্ট সাইটিং পদ্ধতিতে হাতির সংখ্যা কমলেও চিন্তার কিছু নেই৷’ বনকর্তাদের একাংশেরও দাবি, নয়া প্রযুক্তিতে গণনা হলে আর কোনও বিভ্রান্তি থাকবে না৷ বস্তুত নয়া প্রযুক্তিতে হাতি গণনার কাজ পরীক্ষামূলকভাবে শুরুও হয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷
[রথ নয়, এসইউভি গাড়িতে চেপে মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা!]
The post উত্তরবঙ্গে কমছে হাতির সংখ্যা! ধন্দে খোদ বনকর্তারাই appeared first on Sangbad Pratidin.
