মুর্শিদাবাদের বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণের কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি এবার কান্দিতেও! ধৃত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের (Shantanu Sinha Biswas) দুটি মোবাইলের খোঁজে কান্দিতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোনা পাপ্পুর মামলায় গত কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এই কর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরেই সামনে আসে কান্দিতে তাঁর প্রাসাদর মতো সাদা বাড়িটি। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আগেই বিপুল সোনার খোঁজ পান তদন্তকারীরা। আজ, মঙ্গলবার ফের ওই বাড়িটিতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, বিশাল ওই বাড়িতেই ধৃত প্রাক্তন পুলিশকর্তা তাঁর ব্যবহৃত ফোন দুটি লুকিয়ে রেখেছেন। এমনকী বাড়ির পাশে থাকা পুকুরেও তা ফেলে দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান। আর তাই পুকুরে ডুবুরি নামিয়েও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে খবর।
এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা তাঁর মোবাইল পুকুরে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্যে ছিল, প্রমাণ লোপাঠ করা। ঠিক একই কায়দায় ধৃত শান্তনুও তাঁর মোবাইল দুটি সরিয়ে প্রমাণ লোপাট করতে চাইছেন বলে অনুমান ইডির। আর সেই মোবাইল পাওয়া গেলে সোনা পাপ্পুর মামলায় আরও বেশ কিছু গোপন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে দাবি। অন্যদিকে সোনা পাপ্পুর তোলাবাজি, জমি দখল, অস্ত্র আইনের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটরের নজরে রয়েছেন পুলিশের প্রায় ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে যেমন সাব ইন্সপেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর পদের আধিকারিক রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন কনস্টেবল পদের পুলিশকর্মীও।
এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা তাঁর মোবাইল পুকুরে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্যে ছিল, প্রমাণ লোপাঠ করা। ঠিক একই কায়দায় ধৃত শান্তনুও তাঁর মোবাইল দুটি সরিয়ে প্রমাণ লোপাট করতে চাইছেন বলে অনুমান ইডির।
ইডির দাবি, প্রোমোটার, পুলিশ, দুষ্কৃতীদের সিন্ডিকেট চলত। এই সিন্ডিকেটের মূল মদতদাতা শান্তনু। ইডির অভিযোগ, তোলাবাজি করে জমি দখলের ক্ষেত্রে শান্তনু এক পুলিশকর্তা হিসেবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। অন্যান্য পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের নিজের কাজে ও লাগাতেন। এরকম প্রায় ৩০ জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ইডির। ওই পুলিশকর্মী আধিকারিকরা মূলত পুলিশ ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সুবাদে শান্তনু তাঁদের নির্দেশ দিতেন। বেআইনি টাকা লেনদেন ও কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রেও তাঁদের সাহায্য নেওয়া হত বলে ধারণা ইডির। এদিকে, মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদের মত বাড়ি ছাড়াও আরও কয়েকটি হোটেল, পানশালা ও রিসর্টে তিনি টাকা লগ্নি করেছিলেন বলে ইডির কাছে খবর। ইডির গোয়েন্দাদের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, এই দেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যর কয়েকটি জায়গায় ব্যবসায় লগ্নি করেছিলেন শান্তনু। এমনকী, বিদেশে শান্তনুর বেনামি সম্পত্তি রয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও খোঁজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইডি।
