shono
Advertisement
Bankura

খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে রোগী! তৃণমূল জমানায় হয়নি রাস্তা মেরামত, এখনও যন্ত্রণায় গ্রামবাসীরা

বাঁকুড়ার বড়জোড়ার তালতোড় গ্রামে রাস্তার ছবিটা ১৫ বছর ধরে এমনই।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 08:18 PM Aug 06, 2026Updated: 08:21 PM Aug 06, 2026

বঞ্চনা আর বঞ্চনা! গত ১৫ বছর ধরে বেহাল রাস্তার ছবিটা আর বদলাল না। বেহাল বললেও কম বলা হয়। মাটি, কাদা আর খানাখন্দে ভরা চলার পথ এক। জোর করেই তাকে 'রাস্তা' বলছেন বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের ফুলবেড়িয়া বুথের তালতোড় গ্রামের বাসিন্দারা। ভরা বর্ষায় তা আর চলার পথ থাকে না। অ্যাম্বুল্যান্স দূর অস্ত, টোটো-রিক্সাও যেতে পারে না। তখনও মুমুর্ষু রোগীকে খাটিয়ায় চাপিয়ে দীর্ঘ পথে পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গ্রামবাসীদের সকলের অভিযোগ, তৃণমূল জমানার ১৫ বছর রাস্তা সংস্কারে কোনও কাজই হয়নি। বারবার আবেদন জানিয়েও এই সমস্যাই তাঁদের সঙ্গী।

Advertisement

ভাঙাচোরা রাস্তা ধরে খাটিয়ায় রোগীকে চড়িয়ে মেন রোড পর্যন্ত যেতে হয়, নিজস্ব ছবি

গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটিই। বড়জোড়া ব্লকের তালতোড় গ্রামের এই এবড়োখেবড়ো রাস্তা ছাড়া গতি নেই বাসিন্দাদের। আর ভরসার সেই একমাত্র রাস্তাটি প্রায় ২০ বছর ধরে বেহাল। বর্ষায় কাদা ও জল জমে যাওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্স তো দূরের কথা, টোটোও ঢুকতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে উপায় একটাই। রোগীকে খাটে চাপিয়ে মেন রোড পর্যন্ত আনতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। গ্রামের পড়ুয়া থেকে বাসিন্দাদের অভিযোগ, “বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু আজও রাস্তা হয়নি। রোগী, গর্ভবতী মহিলা বা বয়স্ক কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়।”

শুধু রোগী নন, বৃষ্টিতে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুলপড়ুয়ারাও। রিমা দাস নামে এক ছাত্রীর কথায়, “বর্ষায় কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে জামাকাপড় নোংরা হয়ে যায়। ১৫-২০ বছর ধরে রাস্তার একই অবস্থা। বারবার বলা সত্ত্বেও কেউ রাস্তা মেরামত করেনি। আমরা রোজ ভয়ে ভয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাই। সন্ধ্যার পর তো যাওয়াই যায় না।”

সঞ্জিত বাউড়ি নামে গ্রামবাসী বলছেন, “কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে খাটিয়ায় চাপিয়ে তবে এই রাস্তা পেরিয়ে মেন রোডে যেতে হয়। তৃণমূলের আমলে কোনও কাজই হয়নি। আমরা বারবার আবেদন করেছিলাম। ১৫-২০ বছর ধরে একই অবস্থা। এখন রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, দয়া করে রাস্তাটা মেরামত করে দিন।'' এক টোটোচালক বলছেন, “এই ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অনেক সময় গ্রামে ঢুকতেই চাই না।” এই দুর্দিন কবে কাটবে? তারই অপেক্ষায় তালতোড়া।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement