দীর্ঘদিন ধরেই পুরুলিয়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় জাল লটারির কারবার চলছিল বলে অভিযোগ সামনে আসছিল। যদিও এহেন অভিযোগ সামনে আসতেই তৎপর হয় জেলা পুলিশ-প্রশাসন। পুরুলিয়া মফস্বল থানা-সহ একাধিক থানা এলাকায় চলে অভিযান। কিন্তু বেআইনি কারবার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। পুরুলিয়ায় নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নিতেই একেবারে উলটো ছবি! এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত কিং পিনকে পাকড়াও করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানার পুলিশ ওই দুই জাল লটারি কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল জাল লটারি কারবার চালানোর অভিযোগে দু'জন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে লটারি ও নগদ ২২ হাজার টাকা। ওই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শক্তি যাদব ও গণেশ সাউ। ধৃত দুজনের বাড়ি যথাক্রমে নিতুড়িয়া থানার আমডাঙা ও রাণীপুর গ্রামে। প্রথমজন বিক্রেতা এবং দ্বিতীয়জন এই চক্রের মূল সরবরাহকারী। প্রায় বছরখানেক গা ঢাকা দেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শুধু তাই নয়, ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাদের ৫ দিন পুলিশ হেফাজত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল জাল লটারি কারবার চালানোর অভিযোগে দু'জন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে লটারি ও নগদ ২২ হাজার টাকা। ওই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছিল। রবিবার রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তাঁকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের অন্যান্যদের খোঁজ শুরু হয়েছে।
এই জেলায় বেআইনি লটারি কারবার দীর্ঘদিন থেকে চলছে। অতীতে জেলা পুলিশ এমনকি সিআইডি এই চক্র ভাঙতে বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয়। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে এহেন কেলেঙ্কারির সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের যোগসূত্র সামনে আসে। ফলে এই ক্ষেত্রেও ঝাড়খণ্ডের যোগ থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। কারবারিরা এই রাজ্যে অনুমোদিত কাগজের লটারি এমন ভাবে নকল করে ছাপে যা বোঝা দুষ্কর। বৈধ লটারি বিক্রিতে যে পরিমাণ কমিশন বিক্রেতারা পান, তার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা পান এই নকল লটারি বিক্রির ক্ষেত্রে। তবে ধরা পড়ার ভয়ে প্রধান শহর ছেড়ে ব্লক শহর এবং গ্রামীণ এলাকাকেই এই কারবারের 'সেফ জোন' হিসাবে বেছে নেয় অভিযুক্তরা। তদন্তকারীরা প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছেন, এই জাল লটারি বিভিন্ন হাত বদল হয়ে বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়। ধৃত শক্তি যাদব নিতুড়িয়া এলাকায় ডিস্ট্রিবিউটের কাজ করত। এই লটারি কারবারে একদিকে যেমন ক্রেতারা ঠকতেন। পাশাপশি রাজ্যের বিপুল কোষাগারেও ধাক্কা পড়ত। ফলে এই ঘটনায় একেবারে শেকড় পর্যন্ত যেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
