ডিম ছোড়া কাণ্ডে সোশাল মিডিয়ার পোস্টে হিন্দু মহিলাদের বোরখা পরার নিদান! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ মহুয়ার মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন করিমপুর মণ্ডল-৪ এর সাধারণ সম্পাদক হীরক ভট্টাচার্য। মহুয়ার এই মন্তব্যে হিন্দু ও মুসলিম— উভয় সম্প্রদায়েরই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে, এই অভিযোগে সরব হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কিছুদিন আগে বাড়িতে ত্রাণসামগ্রী মজুতের অভিযোগে জনরোষ আছড়ে পড়ে প্রাক্তনমন্ত্রী উজ্জ্বলের উপর। এ ছাড়াও আদালত চত্বরে বিজেপির একদল মহিলা সংসদের আসার অপেক্ষায় ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিজেপির মহিলাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁকে একাধিক মন্তব্য করতে শোনা যায় (যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন)। অভিযোগ, ওই পোস্টে সরাসরি কয়েকজন হিন্দু মহিলার নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘বোরখা’ পরার কথা বলেন তিনি। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মঙ্গলবার হোগলবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর বিজেপির করিমপুর মণ্ডল-৪ এর সাধারণ সম্পাদক হীরক ভট্টাচার্য বলেন, "মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে। হিন্দু সনাতনী মহিলাদের বোরখা পরার কথা তিনি কোন সাহসে বলেন? এটা আমাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে সরাসরি আঘাত। আবার অন্যদিকে, মুসলমান সম্প্রদায়ের মহিলাদের উদ্দেশ্যেও তাঁর এই উক্তি অত্যন্ত অপমানজনক। বোরখা পরেই কি অনৈতিক কাজ করা যায়? তিনি দুই সম্প্রদায়ের ভাবাবেগ নিয়েই ছিনিমিনি খেলছেন। তাই আমরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।"
অভিযোগের দায়ের হওয়ার পর মহুয়ার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, একটি অভিযোগ তাঁরা পেয়েছে। বিষয়টি পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম উইং’-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
