সখ করে পোষ্যকে নিয়ে আসা হয়েছিল বাড়িতে। শেষপর্যন্ত ওই পোষ্যকেই বাড়িতে তালাবন্ধ করে ওই পরিবার বেঙ্গালুরু গেল। একচিলতে বারান্দায় শীতের রাতে দিনকয়েক ধরে আটকে থাকল ওই সারমেয়! খাবার জলও ছিল না বলে অভিযোগ। খাওয়া কতটা জুটেছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। শেষপর্যন্ত ওই সারমেয়টিকে উদ্ধার করেছে একটি পশুপ্রেমী সংগঠন। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির উত্তরপাড়ায়।
উত্তরপাড়া পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডা: সরোজনাথ মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটের ওই দোতলা বাড়ির বাসিন্দা অভিযুক্ত বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। বাড়ির কর্তা রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পরিবারের ছেলে একটি দেশি কুকুরকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। ছেলের ইচ্ছায় কুকুরটিকে পোষ্য হিসেবে বাড়িতে রাখাও হয়। কিন্তু পোষ্যটি হয়তো ওই পরিবারের অংশ হয়ে উঠতে পেরেছিল? কারণ, ছেলেকে নিয়ে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। আর কুকুরটিকে দোতলার একচিলতে বারান্দায় রেখে যাওয়া হয়েছে! নিয়মিত জল, খাবার কীভাবে সে পাবে? সেই বিষয়ে কিছু ভাবা হয়েছিল কি? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে শীতের মরশুমে সারমেয়টি বারান্দাতেই থাকছিল। খাবার জলের কোনও পাত্র দেখা যায়নি। ওই বাড়ির পরিচারিকা বাড়ির তালা খুলে দিনে একবার করে কুকুরটিকে খাবার দিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে ওই পরিচারিকা নিত্যদিন সারমেয়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, জল দিয়েছেন কিনা, সেই প্রশ্নও রয়েছে। একা থাকার দরুণ ওই সারমেয় কান্নাকাটি, আর্তনাদ, ছটফট করতে থাকে। প্রতিবেশীরা প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও খটকা লেগেছিল। এদিন সকালে ওই সারমেয়কে দোতলার বারান্দায় ছটফট করতে দেখে সন্দেহ গাঢ় হয় প্রতিবেশীদের। দেখা যায়, বাড়ি তালাবন্ধ। জানা যায়, ছেলের পড়াশোনা বা ভর্তির জন্য সপরিবারে তাঁরা বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। আর সারমেয়টি বাড়িতে বন্দি! প্রতিবেশীদের দাবি, ওই পরিবার ঘুরতে গিয়েছে।
শেষে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে খবর দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়। তাঁরা কোনওভাবেই ঘটনার জন্য ব্যথিত নয়। বরং সারমেয়টিকে কোনও সংস্থা চাইলে নিয়ে যেতে পারে! সেই কথাও ফোনের ওপার থেকে জানানো হয়। শেষপর্যন্ত ওই সারমেয়টিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এহেন ঘটনার নিন্দা, সমালোচনা করছেন প্রতিবেশীরাও।
