শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ। গ্রেপ্তার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর এসেছে বলে মহিলাকে ফোন করে আধার কার্ড ও ব্যাংকের একাউন্ট নেওয়া হয়। এরপরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার হাজারপুর গ্রামে নিজের লজে ডেকে ওই মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্য।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বিজেপি নেতার নাম দীপঙ্কর দাস। তাঁর বয়স ৩২ বছর। তিনি নয়েনসুখ পঞ্চায়েতের বিজেপির নির্বাচিত সদস্য। দীপঙ্করের বাড়ি ফরাক্কার হাজারপুর এলাকাতে। অভিযোগ, শুক্রবার দুপুর নাগাদ দীপঙ্কর দাস অভিযোগকারী মহিলাকে আধার কার্ড নিয়ে হাজারপুর গ্রামে তার লজে ডাক। দীপঙ্কর তাঁকে জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তাঁর নামে ঘর এসেছে।
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা দীপঙ্কর দাস।
জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মহিলা ওই লজে যাওয়ার পরে দীপঙ্কর তাঁকে লজের উপর তলায় যেতে বলে। লজের মধ্যে ঢুকতেই মূল গেটের শাটার নামিয়ে গেট বন্ধ করে দেয় দীপঙ্কর। গেটের শাটার বন্ধ করা হল কেন সেই প্রশ্ন করতেই অই মহিলার মুখ চেপে ধরে জোর করে তাঁকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ সেই ঘরেই তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে দীপঙ্কর। ওই মহিলা জানিয়েছেন, নিজেকে বাঁচাতে প্রাণপণে চিৎকার করার চেষ্টা করেন তিনি। এই সময় বিজেপির ঐ পঞ্চায়েত সদস্য তাঁর মুখ চেপে ধরে খুনের হুমকি দেন। কোনওভাবে নিজের প্রান বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালান ওই মহিলা। এরপরেই, ফরাক্কা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
মহিলার অভিযোগ, 'একজন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসতে বলেন। আমার সরল বিশ্বাস ও অসহায়তার সুযোগ নিয়ে আমাকে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে আমাকে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই ঘটনায় আমি শারিরীক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এবং ভীষণভাবে আতঙ্কিত।" ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ফরাক্কা থানার পুলিশ শুক্রবার ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে। শনিবার সকালে ধৃত দীপঙ্কর দাসকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফরাক্কা থানার পুলিশ।
