একাধারে তিনি নায়ক আবার অন্যদিকে প্রযোজক। নতুন ছবি মুক্তির আবহে সব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিলেন অঙ্কুশ। আড্ডায় শম্পালী মৌলিক।
দার্জিলিংয়ে কনকনে ঠান্ডায় নিজেদের নতুন ছবির প্রচার করেছেন। এমনকী জেলায় জেলায় ঘুরেছেন ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’-এর জন্য। যে ছবি শুক্রবার মুক্তি পেল। অথচ ছবি মুক্তির আগের দিন নবীনা সিনেমার সামনে তাঁর ছবির ৩০ ফুটের কাট আউট নষ্ট করে দেওয়া হয়। অঙ্কুশ (Ankush Hazra) নিজেই সমাজমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘মানুষ মানুষের ক্ষতি করে কী আনন্দ পায় কে জানে... অবাক লাগে ভাবতে এ আমরা কোন জগতে বসবাস করছি।’ কেন এমন ঘটছে ইন্ড্রাস্টিতে? এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
দূর-দূরান্তে প্রচার পর্বে কী মনে হল?
- সব থেকে এক্সাইটিং, যে ধরনের সাড়া পাচ্ছি বুঝতে পারছি ছবিটা মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে সারা বাংলাজুড়ে। কত মানুষ হল-এ যাবে বা দেখবে আমি জানি না। তবে ছবিটা যে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে, উত্তরবঙ্গেও এত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে, ভালো লাগছে। যখন কোনও ইভেন্ট করি তখন লোক হয় না এমন নয়, কিন্তু সেটা শিল্পীদের দেখার ভিড়। কিন্তু সিনেমা তাঁদের কাছে পৌঁছেছে কি না সেটা নিয়ে সন্দিহান থাকি আমরা। ২০১৫-’১৬ সালের নস্টালজিয়া-আবেগের ঝড়ে হয়তো আসে লোকে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির যা অবস্থা এখন, যে ছবিটা করছি, তার জন্য লোকজন এসেছে কি, সেই জায়গাটা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এইখানে আমি খুশি। এর মধ্যে মালদহ, শিলিগুড়ি, বালুরঘাট, দার্জিলিং গেছি। আর বারাসত, কলকাতা, হাওড়া, বর্ধমান, বহরমপুর সব জায়গায় গিয়েছি।
টার্গেট কি গ্রাম-শহর দুটোই?
- অবশ্যই দুটোই টার্গেট। এই ছবিটা সব ধরনের দর্শকের জন্য। একদম ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড ছবি। তার ওপর সিচুয়েশনাল কমেডি। সবার ছবি। বাংলা ছবির জন্য জেলা একটু দুর্বল হয়ে গেছে, যে কারণে জেলার দর্শককে জাগিয়ে তুলতেই ওখানে একটু বেশি মনোযোগ দিয়েছি।
এখন তো হয় থ্রিলার, নয় ফ্যামিলি ড্রামার রমরমা। তার মধ্যে আপনি কমেডি ছবি নিয়ে আসছেন। কোনটা ‘কিক’ দিল?
- ফ্যামিলি ড্রামার মধ্যেও কমেডি ভীষণভাবে ওয়ার্ক করে। যে কটা ফ্যামিলি ড্রামা চলেছে ইদানীংকালে, কোনওটাই আঁতেল পারিবারিক ছবি নয়। বরং যথেষ্ট এন্টারটেনিং ছবি। সেগুলোই ওয়ার্ক করেছে। এটাও তেমনই এন্টারটেনিং ফ্যামিলি ড্রামা। দেখা যাক, লেট’স হোপ ফর দ্য বেস্ট।
ইতিমধ্যে আপনার ছবির টিভি-স্যাটেলাইট রাইটস বিক্রি হয়ে গেছে।
- আমি খুবই ভাগ্যবান। এই ছবির কনসেপ্টটা ভালো, তার জন্যই বিক্রি করতে পেরেছি।
আপনার টেলিভিশন রেটিং বরাবরই ভালো।
- (হাসি) তার একটাই কারণ, আমি খুব ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড ছবি করে এসেছি। ভায়োলেন্ট বা অ্যাডাল্ট ছবি খুব কমই করেছি। বাচ্চা ফ্যান আমার অনেক। টাচ উড, একটা হেলদি স্যাটেলাইট-ডিজিটাল চাহিদা অবশ্যই আছে। যে জন্য প্রযোজক হিসাবে ছবি বানাতে সাহস পাই।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা প্রবণতা এসেছে ফ্যান দিয়ে হল ভরানোর এবং কর্পোরেট বুকিংয়ের। এটা প্রায় ওপেন সিক্রেট বলা যায়। প্রযোজক হিসাবে আপনি কী বলবেন?
- অদ্ভুত পারসেপশনের খেলা হয়ে গেছে এখন, লোকে ইনসিকিওর হয়ে গেছে বড্ড বেশি। সত্যি কথা বলতে যখন মনে হয়, থার্টি পার্সেন্ট টিকিট লোকে কাটল, বাকি সিক্সটি পার্সেন্ট যদি আমি কেটে ফেলতে পারি, তাহলে হাউসফুল হয়ে যাবে। এবং একটা পারসেপশন ক্রিয়েট হবে। সেটা কাটার পর দুটো জিনিস ব্যাকফায়ার করতে পারে। যদি তোমার সেই ম্যানপাওয়ার না থাকে যারা তোমার জন্য হলে যাবে। কারণ, টিকিট কাটলেই তো হল না, লোককেও যেতে হবে। দুই, হলে লোকে গেল, তুমি তাদের জন্য টিকিট কেটেছ কি না, সেটাও কেউ দেখল না। কিন্তু প্রযোজক হিসাবে, একটা চাপ মাথায় থাকবেই যে, আবার আমার টাকা গেল! শুধু ইনভেস্ট করে গেলেই তো হল না, রিটার্ন কবে পাব, সেই ভাবনাও থাকে।
লোক আনা গেলেও, দিনের শেষে তো আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে।
- একদম। আমরা সিনেমাটা পয়সা দিয়ে বানাই। তারপর দর্শকের ভালোবাসা এবং তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছবি দেখলে, সেই টাকা উঠে আসে। কিন্তু দর্শক আনতেও যদি টাকা দিতে হয়, তাহলে ঘরে তুলব কী! রিলিজের পরেও টাকা ঢালতে হলে তো কিছুই হাতে থাকবে না। জানি, এখন সিস্টেম হয়ে গেছে নিজের পকেট থেকে বুকিং করার জন্য আলাদা বাজেট রাখা হয়। কিন্তু সেই বাজেটটা ভালো সিনেমা বানানোর জন্য কম মানুষ দেয় (হাসি)। তবে একথা সত্যি হিন্দি-বাংলায় এমন অনেক উদাহরণ আছে, প্রযোজককে পয়সা খরচ করে হল-এ লোক আনতে হয়নি। প্রতিযোগিতার বাজারে একে-অপরকে দেখানোর চক্করে এটা বেশি হয়েছে। আমি কিন্তু এক পয়সা বুস্টিং করিনি আমার ট্রেলারের জন্য। আমার চ্যানেলের কুড়ি হাজার সাবস্ক্রাইবার মাত্র। ট্রেলার ছাড়ার পরে সাড়ে তিন লাখ ভিউস হয়েছে সাতদিনে। চার নম্বরে ট্রেন্ডিং ন্যাশনালি (সোমবার)। টাকা ঢাললে আরও ভালো কিছু হত, হয়তো চার মিলিয়ন ভিউস হত। কিন্তু নিজের মেরিট-ই বুঝতে পারতাম না। টাকা দিয়ে করতে করতে আমরা তো নিজের মূল্যটা কোনওদিন বুঝতে পারব না। এই পরিস্থিতিতে প্রচুর অ্যাপ, কোম্পানি মুনাফা করে চলেছে। লাইক কেনা যায়, বুক মাই শো-এর ‘ইন্টারেস্ট’ কেনা যায়, এমনকী রিভিউস। যদি সব কিছুই কেনা যায়, নিজের মূল্য বুঝব কী করে!
ছবি: সোশাল মিডিয়া
প্রত্যেকটা উৎসবে ছবি রিলিজের প্রাইম উইন্ডো হয়েছে। আপনি ছবি নিয়ে আসছেন, সাধারণ দিনে। চাপ অনুভব করছেন?
- চাপ একদম নেই, বললে ভুল বলা হবে। ছুটির সময় লোকজন হুড়মুড়িয়ে ছবি দেখতে যায়, আমি জানি। সেক্ষেত্রে একটা বেসিক টাকা উঠে আসে। আমার চ্যালেঞ্জ হল, ছবি নিয়ে ঠিকঠাক উত্তেজনা থাকলেই টাকা উঠবে বা লোক যাবে। ২৩ জানুয়ারি ছবি আনতে গেলে, যাদের সঙ্গে তর্ক করতে হত আমাকে, তাদের মধ্যে এক-দু’জন এমন আছে, যারা আমাকে তৈরি করেছে। সেইখানে দাঁড়িয়ে ওই অশান্তি আমি করতে পারি না। আমি শ্রীকান্তদা বা শিবুদাদের সঙ্গে ঝগড়া করব? না। শ্রীকান্তদা আমাকে তৈরি করেছে। শিবুদা আমার থেকে কত সিনিয়র, তাঁদের সংস্থার ২৫ বছর হয়ে গেছে। আমাকে ওইরকম একটা চরিত্র দিয়েছে। অত অভদ্র আমি হতে পারতাম না। আর আজকে যদি ভয় না কাটাতে পারি নরমাল দিনে আসার, তাহলে তো জীবনে ভয় কাটাতে পারব না। একবার তো অ্যাসিড টেস্টে যেতেই হয়। প্রাণ দিয়ে ছবিটা প্রোমোট করেছি। এবার দর্শক গেলে ভালো, দেখা যাক।
বেটিং অ্যাপ সংক্রান্ত ঘটনা ছবির প্রচারে প্রভাব ফেলেছে?
- না, বিষয়টা তদন্তের অধীনে রয়েছে। এই নিয়ে বেশি কিছু বলছি না। তবে অনুরাগীদের জন্য বলতে পারি চিন্তার কিছু নেই।
শেষ প্রশ্ন, ছবিতে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা ঠোঁটে ঠোঁট রাখছেন। এবার বিয়ে কবে?
- (হাসি) ইন্ডাস্ট্রিই সেট্ল হচ্ছে না, আমি নিজে কী করে সেট্ল করব। যে বাড়িতে থাকছি, সেটাই কাঁপছে। সুতরাং কাঁপাকাঁপি বন্ধ হলে ওইসব দিকে ভাবব।
