সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: জঙ্গলমহলের নলেন গুড়, জঙ্গলমহল মিষ্টি, সিরকাবাদের আখের গুড়, ঢেঁকিছাটা চাল, মাশরুম, মধু, ছৌ মুখোশ। এই সবই পুরুলিয়ার নিদর্শন। সেই পুরুলিয়ার নিজস্ব সম্পদ এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে পর্যটকদের হাতে তুলে দিতে চারটি ভ্রাম্যমান স্টল চালু করল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। আপাতত ওই মোবাইল আউটলেটের গাড়ি অযোধ্যা পাহাড়ের একাধিক সাইট সিংয়ে থাকবে। তারপর ধাপে ধাপে জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে ও তার চারপাশে পুরুলিয়ার মাটির গন্ধ মেশানো নানা খাবার ও হস্তশিল্প মিলবে। তাই তো এই প্রকল্পের ট্যাগ লাইন 'যা খাঁটি, তা পুরুলিয়া।'
বুধবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের সাইট সিয়িং আপার ড্যামে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম। ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ, এডিএফও সায়নী নন্দী, বাঘমুন্ডি বিডিও আর্য তা সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আওতায় থাকা পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির উদ্যোগে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যা পুরুলিয়ার পর্যটনকে তুলে ধরতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সহ-সভাধিপতি। নিজস্ব ছবি।[/caption]
পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির চেয়ারম্যান তথা পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, "পুরুলিয়ার প্রকৃতি, ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গেও এই জেলার কিছু নিজস্বতা রয়েছে। যা দিয়ে এই জেলাকে চেনা যায়। সেই সব উৎপাদিত দ্রব্য যার মধ্যে রয়েছে খাবার ও হস্তশিল্প। তা যাতে পর্যটকরা এক ছাতার তলায় পান সেই কারণেই আমরা চারটি ভ্রাম্যমান স্টল চালু করেছি।" পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ওই চারটি স্টল অযোধ্যা হিলটপ, বামনি ফলস, আপার ড্যাম ও ছৌ মুখোশ গ্রাম চড়িদায় থাকবে।
পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি তাদের ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানির মাধ্যমে এই খাবার ও হস্তশিল্প তৈরি হয়। এই জেলা থেকেই কাঁচামাল নিয়ে তাদের এই কাজ চলে। ভ্রাম্যমান আউটলেটে সাধারণ মাশরুম ছাড়া ড্রাই মাশরুম যা অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। সেই সঙ্গে মাশরুমের আচার, কাসুন্দি মিলবে। মিলবে মা-ঠাকুমার হাতে তৈরি কলাই ও মসুর ডালের বড়ি, গুঞ্জা তেল, এমনকি খাঁটি সর্ষের তেলও। বাজারে যা দাম তার থেকে সামান্য কম দামেই পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
অযোধ্যা হিলটপ, বামনি ফলস, আপার ড্যাম ও ছৌ মুখোশ গ্রাম চড়িদায় ঘুরবে এই ভ্যান। নিজস্ব ছবি।
পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সচিব আশিক ইকবাল মণ্ডলের কথায়, "পুরুলিয়ায় বহু পর্যটক বেড়াতে এসে পুরুলিয়ার যে সকল বিখ্যাত খাবার বা হস্তশিল্প পেতে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে বেড়ান। অনেক ক্ষেত্রে তা হাতে পান না। কারণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে সব থাকে। তাই পুরুলিয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের হাতে পুরুলিয়ার সম্পদকে যাতে আমরা তুলে ধরতে পারি সেই কারণেই এই প্রয়াস। এই কাজের মধ্য দিয়ে যাতে অর্থনীতি চাঙ্গা হয় সেটাও আমরা দেখছি।" আগামী দিনে পুরুলিয়ার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন সাইট সিয়িং-এ ওই ভ্রাম্যমাণ আউটলেট ঘুরবে।"
ওই চারটি স্টলের মধ্যে আড়শা গ্রিন ফিল্ড ও অযোধ্যা অর্গানিক নামে দুটি ফার্মার্স প্রডিউসার ওই মোবাইল আউটলেটের দায়িত্ব পেয়েছে। পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, খেজুর গুড়ের পাটালি ১ কেজির দাম রাখা হয়েছে ২৪০টাকা, খেজুর ঝোলা গুড় কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, ১ লিটার গুঞ্জা তেল ২৬০ টাকা, মা-ঠাকুমার হাতে কলাই ডালের বড়ি ১ কেজির দাম রয়েছে ৩০০ টাকা, একেবারে খাঁটি সরষের তেল ২৬০ টাকায় মিলবে ১ লিটার, দুর্গা মুখোশের দাম রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা l ওই আউটলেটে মিলবে জৈব সারও। যার দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা।
