পলাশ পাত্র, তেহট্ট: অভাবের সংসারে আলো ফোটাল রূপসিনা খাতুন। তার মেধার কাছে হার মানল দারিদ্র। তেহট্ট দু’নম্বর ব্লকে উজ্জ্বল মুখ। উচ্চমাধ্যমিকে পেয়েছে ৪৬২ নম্বর। প্রতিদিন অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে নিজেকে অন্যভাবে গড়েছে হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রীটি। বড় হয়ে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন তার। গ্রামে অভাবী পড়ুয়াদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতে চায় রূপসিনা।
[ভিলেন মাছি, জঙ্গলমহলে আদিবাসী মহিলাদের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ]
রূপসিনার কথায়, “এমনও দিন গিয়েছে সকালে না খেয়ে স্কুলে গিয়েছি। আবার বিকেলে ফিরে কিছু না খেয়ে পড়তে চলে গিয়েছি। বারবার মনে করেছি আমাকে কিছু করতে হবে। আমি যে কষ্ট করে পড়াশোনা করছি, তা যেন গ্রামের অন্য কারও না হয়। গ্রামের জন্য কিছু করতে চাই।” বাবা, মা ও এক ভাইকে নিয়ে রূপসিনার পরিবার। পাটকাঠির বেড়া দেওয়া বাড়িতে নিজেকে শুধু পড়াশোনার মধ্যেই আবদ্ধ রাখেনি সে। মায়ের সঙ্গে সংসারের কাজও করেছে। রূপসিনার বাবার কথায়, “আমি লেখাপড়া করিনি। পরের জমিতে কাজ করি। মাসের সব দিন কাজও থাকে না। কিন্তু মেয়েটা সব যেন বুঝতে পারে। কোনওদিন কিছু চায় না। খুব কষ্ট করে। আমাদের কষ্ট হলেও ওকে পড়াব। ওকে বড় করবই।”
[বিরল প্রজাতির পাখি মেরে ফেসবুকে নাগা জওয়ানদের উল্লাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে নালিশ বনদপ্তরের]
বাড়ি থেকে সবুজসাথীর সাইকেল চালিয়ে তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রূপসিনা স্কুলে যায়। রূপসিনার মা জানিয়েছেন, মেয়ের সাফল্যে আমরা সকলে খুশি। এই রেজাল্টে খুশি স্কুলও। টিচার ইনচার্জ মিনারুল মণ্ডল বলেন, ও স্কুলের গর্ব। স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ছাত্রীটি স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। রূপসিনা মাধ্যমিকেও ভাল ফল করেছিল। উচ্চমাধ্যমিকে সে পেয়েছে, বাংলায় ৮৭, ইংরেজিতে ৯০, ভূগোলে ৯১, দর্শনে ৯৭, সংস্কৃতে ৯৬। রূপসিনা জানিয়েছে, ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়তে চাই।
The post না খেয়েও চলেছে পড়াশোনা, উচ্চ মাধ্যমিকে সাফল্যই নতুন লড়াইয়ের রসদ রূপসিনার appeared first on Sangbad Pratidin.
