দেশভাগের যন্ত্রণা, শিকড় ছেঁড়া মাটির প্রতি আজীবনের টানকে জাগ্রত রেখে জাতীয়তাবোধকে নতুন করে উদ্বুদ্ধ করতে এবার রাজ্যে দাবি উঠল ‘পার্টিশান মিউজিয়ামের’। পূর্ব ও পশ্চিমে পাঞ্জাব ভাগ হয়ে যাওয়ার পর এমন মিউজিয়াম সেখানে গড়ে উঠেছে। তাতে সে রাজ্যের মানুষ, সেখানকার বীর সন্তানদের দেশ ভাগের সঙ্গে জড়িত ইতিহাস, সমাজ-পরিবারে শিকড় ছিঁড়ে আসার অতীততে সংরক্ষিত রয়েছে। অথচ দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত যে বাংলার লড়াই, তার বীর সন্তানদের গাথা সব থেকে বেশি, তাকে নিয়ে সংরক্ষিত কোনও মিউজিয়াম সেভাবে নেই। মূলত ১৯৩৭ থেকে দেশভাগের যে পটভূমি তৈরি হচ্ছিল বাংলায়, সেই সময়কালকে সামনে রেখে এই মিউজিয়াম চাইছেন গবেষকরা। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও খুব শীঘ্রই আবেদন জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। এহেন উদ্যোহের সঙ্গে রয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শিষ্য গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে গোপাল পাঁঠার পরিবারও।
সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত, সৈকত নিয়োগীদের পরিকল্পনা, স্বামীজির চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে তাঁর আদর্শে নেতাজির কাজ, বাংলার বিপ্লবে ঋষি অরবিন্দের ভূমিকা থেকে সমস্ত বিপ্লবীদের ভূমিকা তো বটেই, মূল লক্ষ্য হবে শিকড় ছিঁড়ে আসা মানুষের নানা সময়ের আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশভাগের যন্ত্রণার নানা জীবন্ত দলিল। যা এই মিউজিয়ামকে জীবন্ত ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে বলে আশা উদ্যোগীদের।
শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন উপলক্ষে হাজির ছিলেন দুই গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত, সৈকত নিয়োগী-সহ শান্তনু মুখোপাধ্যায়, নিহারীকা মুখোপাধ্যায়ের মতো গোপাল মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা। এই পার্টিশান মিউজিয়ামে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে একটি বিশেষ কক্ষ রাখার দাবিও রয়েছে। গবেষকদের কথায়, দেশভাগের আট দশক পরও উদ্বাস্তুদের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি । নতুন প্রজন্মে র কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা এবং দলিল, স্মৃতি চারণ ও গবেষণার মাধ্যমে দেশভাগের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ছবি সৌজন্যে- গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত, সৈকত নিয়োগী।
আর তাই সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত, সৈকত নিয়োগীদের পরিকল্পনা, স্বামীজির চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে তাঁর আদর্শে নেতাজির কাজ, বাংলার বিপ্লবে ঋষি অরবিন্দের ভূমিকা থেকে সমস্ত বিপ্লবীদের ভূমিকা তো বটেই, মূল লক্ষ্য হবে শিকড় ছিঁড়ে আসা মানুষের নানা সময়ের আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশভাগের যন্ত্রণার নানা জীবন্ত দলিল। যা এই মিউজিয়ামকে জীবন্ত ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে বলে আশা উদ্যোগীদের। এই পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
