সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ইস্যু রয়েছে টুরগা জল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের। ইস্যু আছে বনদপ্তরের বামনি ফলসকে ‘দখল’ নেওয়া। ইস্যু ছিল একের পর এক জমি ‘দখল’ হয়ে যাওয়া। তবুও নানা ইস্যুর পর পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তৃণমূল। সেই ফলাফলেই একেবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লক্ষ্মীবারে দলের প্রধান, উপপ্রধান নির্বাচন করে এই প্রথম অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে
বোর্ড গড়ল তৃণমূল। সৌজন্যে উন্নয়ন, ধারাবাহিক উন্নয়ন। বাঘমুন্ডির বিডিও দেবরাজ ঘোষ বলেন, “অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন হয়েছে।”
এই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ১০টি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের তৃণমূল পায় ছটি আসন। ফরওয়ার্ড ব্লক পায় চারটি। এদিন বোর্ড গঠনের সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা প্রধান নির্বাচনে অংশ নেন নি। এই পাহাড়জুড়ে ধারাবাহিক উন্নয়নেই শাসকদল তৃণমূলের উপর আস্থা রাখেন এই বনমহলের মানুষজন। যে উন্নয়নের কাছে বাইরে থেকে আসা মানুষজনের মগজ ধোলাই হার মানে। হার মানে ধর্মের নামে রাজনীতি। হার মেনেছে অতীতের সেই বিপথে পরিচালিত করার বার্তা।
[আরও পড়ুন: সিপিএমের ভোটে তৃণমূলের উপপ্রধান! লাল-সবুজের নয়া রাজনৈতিক সমীকরণে অণ্ডালে চাঞ্চল্য]
একসময় এই পাহাড় ছিল যে সিপিআই (মাওবাদী)-দের অন্যতম ঘাঁটি। সেই জায়গা থেকে সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসন যেভাবে অযোধ্যা পাহাড়কে ‘পাখির চোখ’ করে তাতে তৃণমূলের এই সাফল্য উন্নয়নেরই সুফল। বাঘমুন্ডির তৃণমূল বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো বলেন, “রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের হাত ধরেই অযোধ্যা পাহাড়ে এখন সবুজ পতাকা উড়ছে । এই প্রথম তৃণমূল এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করল।” প্রধান হয়েছেন চম্পা সিং মুড়া। উপপ্রধান হন নকুল চন্দ্র বেসরা।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েতে মাত্র একটি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস এই গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল। রাজ্যজুড়ে বহু পঞ্চায়েতে বিরোধী সদস্যরা তৃণমূলের পতাকা তলে এসেছিল। কিন্তু অযোধ্যা পাহাড় ছিল ব্যতিক্রম। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই পাহাড়ে লিড ছিল না তৃণমূলের। সেই অযোধ্যা পাহাড়ে এবার সবুজ ঝড়। ফলে ফিকে হয়ে যায় কংগ্রেস। তবে বাম আমলে এই গ্রাম পঞ্চায়েত বরাবর দখল রাখত ফরওয়ার্ড ব্লক। সেই ফরওয়ার্ড ব্লকের সিংহ কিন্তু আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বটে। কিন্তু ঘাসফুলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয় এই পাহাড়ে। ঝাঁ-চকচকে রাস্তা, কালভার্ট। পর্যটনকে ঢেলে সাজানো। সেই সঙ্গে উদ্যান পালনের হাত ধরে ফলের চাষ। প্রাণীপালনেও জোর। ঘরের দুয়ারে গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা প্রদান। বাঘমুন্ডি ব্লক কার্যালয়ের শাখা পর্যন্ত খুলে দেওয়া। সেই সঙ্গে ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প। অযোধ্যা পাহাড় নিয়ে কোনরকম কোন অভিযোগ কানে এলেই পুরুলিয়া জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের চটজলদি সমাধান। আর গত বছরের শেষ থেকে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের ‘আস্থা’ প্রকল্প চালু হওয়া। একের পর এক জনসংযোগ শিবির। খাটিয়া বৈঠকে সমস্যা খুঁজে সমাধান। চাকরির পরীক্ষায় পাঠ দান।
এক কথায় এই পাহাড়ের সুখ-দুঃখের শরিক হয়েছে পুলিশ। এই বহুমুখী উন্নয়ন আর পরিষেবা প্রদানে বিরোধীদের মতোই ফিকে হয়ে যায় নির্বাচনের আগে “আগে গ্রাম সভা, পরে ভোট সভা”র স্লোগানও। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই পাহাড়ে সেভাবে ভোটের প্রচার ছিল না। ছিল না দেওয়াল লিখন, পতাকা, ফেস্টুন, পোস্টার। ভোটের আগে একেবারে চুপ হয়েছিল এই পাহাড়। কিন্তু ফলাফলে ঘাস ফুলেই ‘আস্থা’ রাখে। তার ফল বোর্ড গঠনেও।
দেখুন ভিডিও:
