উত্তরবঙ্গ বরাবরই বঞ্চনার শিকার, এমনই অভিযোগ ছিল এতকাল। এবার সেই বঞ্চনা কাটল শুভেন্দু জমানায়। বঙ্গে বিজেপি সরকারের রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হল সোমবার। লোকভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে নয়জন উত্তরের পাচ জেলার বিধায়ক। তবে বিজেপি মন্ত্রিসভায় ব্রাত্য রইল কালিম্পং পাহাড়, জলপাইগুড়ি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। এদিন উত্তরবঙ্গের ৩ পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী একজন এবং ৫ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে। ওই জেলা পেয়েছে দু'জন পূর্ণমন্ত্রী।
নতুন মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় উত্তরের পাহাড়-সমতলে খুশির হাওয়া বইছে। বাম অথবা তৃণমূল আমলে এতজন মন্ত্রী আগে উত্তরবঙ্গ পায়নি। বাম আমলে অশোক ভট্টাচার্যকে একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। স্বভাবতই এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল নজরকাড়া। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার শহরে পথচলতি সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। বিশেষ করে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় শিলিগুড়ির গেরুয়া শিবির খুশির জোয়ারে ভেসেছে। একই ছবি ধরা পড়েছে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায়। বরাবর বিজেপি'র শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গ।
নতুন মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় উত্তরের পাহাড়-সমতলে খুশির হাওয়া বইছে। বাম অথবা তৃণমূল আমলে এতজন মন্ত্রী আগে উত্তরবঙ্গ পায়নি। বাম আমলে অশোক ভট্টাচার্যকে একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
২০১৬ সালে বিধানসভা এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে উত্তরের মাটিতে শক্ত ভিত করে নিতে শুরু করে বিজেপি। এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নির্বাচনে ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪০টি ঘরে তুলে নেয় বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পথ দেখিয়েছে উত্তরের মাটি। তারই উপহারস্বরূপ নিশীথ প্রামাণিককে নিয়ে ১০ জন মন্ত্রী পেল। উত্তরের আট জেলা থেকে ১০ জনের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পাঁচজন। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়েছেন একজন। সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রী হয়েছেন করণদিঘির বিধায়ক ভিরাজ বিশ্বাস। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি নান্টু পাল বলেন, "রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই প্রথম উত্তরবঙ্গের মানুষ এত বড় প্রতিনিধিত্ব পেল। আমরা আশাবাদী উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের জোয়ার আসবে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মিটবে।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, গভীর চিন্তা করে জনবিন্যাস অনুপাতে বিজেপি নেতৃত্ব মন্ত্রী ঠিক করেছেন। রাজবংশী অথবা কামতাপুরি অধ্যুষিত এলাকার কথা মাথায় রেখে চারজন রাজবংশী বিধায়ককে মন্ত্রী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জন পূর্ণমন্ত্রী। মন্ত্রিসভা গঠনে চা বলয়ের আদিবাসী ও নেপালিদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনজন মন্ত্রী হয়েছেন। আলিপুরদুয়ার জেলায় ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল। পাঁচটি আসনেই জয়লাভ করে বিজেপি। উপহার স্বরূপ আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন, কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজকুমার ওরাঁও, কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।
৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪০টি ঘরে তুলে নেয় বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পথ দেখিয়েছে উত্তরের মাটি। তারই উপহারস্বরূপ নিশীথ প্রামাণিককে নিয়ে ১০ জন মন্ত্রী পেল। উত্তরের আট জেলা থেকে ১০ জনের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন চারজন।
দার্জিলিং জেলার পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই বিজেপি জয়লাভ করেছে৷ উপহার স্বরূপ মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। কোচবিহার জেলায় নয়টি আসনের মধ্যে আটটি বিজেপি দখল করেছে। মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক ও তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতি রাভা রায় মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি আসনের সাতটিতেই বিজেপি জয়লাভ করলেও মন্ত্রী পায়নি৷ একই পরিস্থিতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার।
