তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠছিল বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। থানাতেও অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। এই আবহে ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ আগেই পলাতক বলে অভিযোগ। এবার তীর্থঙ্করের বাবা, পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষও গা ঢাকা দিয়েছেন! পুলিশ ইতিমধ্যেই বাবা-ছেলেকে খুঁজতে শুরু করেছে। গতকাল, শনিবার থেকেই নির্মল ঘোষ বাড়িতে নেই বলে খবর! তাহলে কি গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় বাবা-ছেলে এবার দু'জনেই আত্মগোপন করলেন? প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালা বদলের পরে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে বহু তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী-বিধায়ক গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
এই আবহে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে নির্মল ঘোষ, ছেলে তীর্থঙ্কর ও তাঁদের অনুগামী এক পানশালার মালিক সুশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে। খড়দহ থানার পুলিশ সুশান্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল, শনিবার ধৃতকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়। ধৃতকে জেরা করে নির্মল ও তীর্থঙ্করের নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই পুলিশ দু'জনের সন্ধান পেতে চাইছে। খড়দহ থানা সূত্রে খবর, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর ছেলের সন্ধান পেতে চাইছে। তাঁদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করাও হচ্ছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল তৃণমূলের তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। অভয়ার মৃতদেহ পানিহাটি শ্মশানে দ্রুত দাহ করার নেতৃত্বে ছিলেন নির্মল! সেই ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। এক ব্যক্তি লটারিতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে এক কোটি টাকা জিতেছিলেন! সেই ব্যক্তির থেকে ওই লটারির টিকিট ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্মলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে এই বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। এবার বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল তীর্থঙ্করকে। বিজেপির তরফে প্রার্থী হয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। রত্নার কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন তীর্থঙ্কর। স্থানীয় বিজেপি নেতার দাবি, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই একাধিক দুষ্কৃতীমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। দু'জনেই গ্রেপ্তার হবেন!
