shono
Advertisement
Birbhum

ডাক পড়ল বিয়ের দিনেই! ছাদনাতলার বদলে শেরওয়ানি পরে SIR শুনানিতে বর

গায়ে হলুদের রঙ শুকোয়নি। তাঁর আগেই নাগরিকত্বের কাঠগড়ায় শুনানিতে বর। বর সাজেই শুনানি। তারপর বিয়ে করতে যাওয়া। শুনানির লাইনে কখনও তিনি দাঁড়িয়ে থেকেছেন। আবার কখন ফাঁকা চেয়ারে বসে ডাকের অপেক্ষায় থেকেছেন। তাঁকে দেখে শুনানিতে আসা মানুষজনও হতবাক।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:41 PM Jan 19, 2026Updated: 09:41 PM Jan 19, 2026

গায়ে হলুদের রঙ শুকোয়নি। তাঁর আগেই নাগরিকত্বের কাঠগড়ায় শুনানিতে বর। বর সাজেই শুনানি। তারপর বিয়ে করতে যাওয়া। শুনানির লাইনে কখনও তিনি দাঁড়িয়ে থেকেছেন। আবার কখন ফাঁকা চেয়ারে বসে ডাকের অপেক্ষায় থেকেছেন। তাঁকে দেখে শুনানিতে আসা মানুষজনও হতবাক। কেউ আবার অস্ফুটে বলে উঠেছেন, এদিনও দেখার ছিল! গোটা বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত বরবাবাজিও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুরে।

Advertisement

এসআইআর শুনানিতে নিত্যদিন সাধারণ মানুষের হেনস্থার অভিযোগ আসছে। অসুস্থ, হাঁটতে না পারা বয়স্করাও হাজির হচ্ছেন শুনানিতে। কিন্তু একেবারে বিয়েরগাড়ি চড়ে বরের পোশাকে এসআইআরের শুনানিতে! এই ঘটনা আর কবে হয়েছে? সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছে। সোমবার শেরওয়ানি পরেই ব্লক অফিসে হাজির বর। ফুল-মালার বদলে সঙ্গে নথিপত্র। গন্তব্য, বিয়ের মণ্ডপের আগে এসআইআর শুনানিতে।

সোমবার নানুর ব্লকের খুজুটিপাড়ায় যখন বিয়ের প্রস্তুতিতে মুখর গোটা বাড়ি। কনের বাড়ি যাওয়ার আগেই এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিশে হাজির দিতে হয় বর কবির আকবর রানা ওরফে রানা শেখকে। এদিন সকাল থেকেই গায়ে হলুদ, গান-বাজনা, মেহেদি ও ফুল-মালায় সেজে ওঠা বাড়িতে চলছিল প্রাক্-বিবাহের অনুষ্ঠান। অথচ বিয়ের দিনেই শুনানির তারিখ পড়ায় কার্যত ফাঁপরে পড়ে যান বর ও তাঁর পরিবার। উপায় না দেখে একেবারে শেরওয়ানি পরেই বরের সাজে নানুর ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানিতে হাজির হন রানা শেখ। বরের এমন উপস্থিতি ঘিরে ব্লক অফিস চত্বরে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। বর অবশ্য পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়ান।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁকে ভিতরে প্রবেশ করে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। শুনানি শেষে রানা শেখ বলেন, “বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার তিন দিন আগে বাড়িতে শুনানির নোটিস পৌঁছেছে। বিয়ের দিনেই শুনানি পড়ায় চরম সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু নোটিস পেয়েছি যখন, তখন আসতেই হয়েছে।” আর এই ঘটনাকে আনন্দের দিনে চরম বিড়ম্বনা বলেই মনে করছেন আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে শুনানিতে উপস্থিত সাধারণ মানুষজন। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দুইয়ের মাঝখানে পড়তে হল বরকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু’মাস আগে লাভপুরের কামোদপুর গ্রামে রানার বিয়ে ঠিক হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও বিয়ের ঠিক তিনদিন আগে এসআইআর শুনানির নোটিস এসে পৌঁছয়। পরিবারের অভিযোগ, নোটিশে রানার বাবা আলঙ্গীর শেখের সন্তান সংখ্যা ভুলভাবে ছয়জন উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। শুনানিতে বর নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

এই ভুল তথ্যের জেরেই ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে অযথা হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। রানার এক আত্মীয় হাবিবুল্লাহ শেখ বলেন, “বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে, অথচ নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। এমন দিনে এই ধরনের হয়রানি দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।” সব মিলিয়ে বিয়ের আনন্দের দিনে নাগরিকত্ব প্রমাণের এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও শুনানির কাজ মিটিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে হাসিমুখেই বেরিয়েছেন রানা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement