নাম নেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। তাড়িয়ে দেওয়া হবে দেশ থেকে! আতঙ্কে আত্মঘাতী মোমো বিক্রেতা। বাথরুমে উদ্ধার গলায় ফাঁস লাগানো দেহ। পরিবার ও স্থানীয়রা দায়ী করছেন এসআইআরকে! তালিকায় নাম না থাকায় চিন্তায় ছিলেন বৃদ্ধ, তার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত বলে দাবি পরিবারের। দোলের সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়িতে।
মৃতের নাম গৌরাঙ্গ দে। তিনি জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শহরের একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি মোমো বিক্রেতা। পরিবার রয়েছেন স্ত্রী ও ছেলে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ডাকা হয় শুনানিতে। তাঁর কাছে যা তথ্য ছিল, তা জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায়, তালিকা থেকে গৌরাঙ্গবাবুর নাম বাদ গিয়েছে। নামের পাশে লেখা ডিলিটি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাম কাটা যাওয়ার পর থেকেই তিনি চিন্তায় ছিলেন। গৌরাঙ্গবাবুর ভাড়াবাড়ির মালকিন বলেন, "নাম বাদ যাওয়ার পর থেকে চিন্তায় ছিলেন। বারবার বলছিলেন তাঁর কী হবে। আজ দোলের দিন সকালে দেহ উদ্ধার হয়। এসআইআরের জন্য খুব খারাপ হল। এই পরিবারের কী হবে?" মৃতের স্ত্রী বলেন, "ওর বাবা-মা বা দাদা কেউ নেই কারও তথ্য দিতে পারিনি। অন্য কাগজ যা ছিল শুনানিতে দিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তালিকা থেকে নাম বাদ যায়। তারপর আজ এই কাণ্ড।"
খবর পেয়ে ছুটে আসেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, নাম বাদ যাওয়ার পর গৌরাঙ্গবাবু তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। সৌকতবাবু অনলাইনে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে দিয়েছিলেন। সৌকতবাবু বলেন, "খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা কাছে গিয়েছিলেন। এসআইআর মানুষের প্রাণ কাড়ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়ছে। এই দায় নিতে হবে কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে।" পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
