সঞ্জিত ঘোষ, নদিয়া: কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তার পরেও ফের আক্রান্ত হাঁসখালির নির্যাতিতার পরিবার। হামলার শিকার নির্যাতিতার ছোট কাকা। হাঁসখালি কাণ্ডের সাক্ষী তিনি। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং খুনের হুমকিও দেওয়া হয় তাঁকে।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা আটটা নাগাদ অভিযুক্ত ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা নির্যাতিতার কাকার বাড়িতে আসে। মারধর করে চাদরে মুড়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চলে একপ্রস্থ মারধর। রানাঘাট আদালতে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিতেও চাপ দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ। মিথ্যা সাক্ষী না দিলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। বেশ কয়েকঘণ্টা পর দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পান নির্যাতিতার কাকা। বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে বগুলা হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতার কাকা। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন। কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হামলা করল অভিযুক্ত আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
[আরও পড়ুন: ‘চরিত্রহীন দাদা’, বউদি সানিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে শোয়েবকেই কাঠগড়ায় তুললেন বোন]
উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলের জন্মদিনের পার্টিতে যায় কিশোরী। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয় এক কিশোরী। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে যায় স্কুলছাত্রীকে। এর পর মৃত্যু হয় তার। প্রমাণ লোপাট করতে তড়িঘড়ি স্কুলছাত্রীর দেহ দাহ করে দেওয়া হয়। পরে যদিও নির্যাতিতার মা এবং বাবা হাঁসখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনার জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টেও। তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিবিআইকে। নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তার ভার দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে। তা সত্ত্বেও নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যের উপর হামলায় স্বাভাবিকভাবেই আরও একবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।
