শুধু তৃণমূল নেতাদের উপরই নয়, কোথাও কোনও বেচাল দেখলেই এখন বাংলায় চলছে 'ডিম-থেরাপি'। এবার দুর্নীতি ও কুকীর্তির অভিযোগ তুলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম হামলা চালালেন অভিভাবকরা। মালদহের (Malda) মানিকচক ব্লকের হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় সোমবার কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠল এলাকা। স্কুলের আনাচকানাচ থেকে একগাদা কন্ডোম উদ্ধার হওয়ার পর ভয়াবহ অভিযোগ তুললেন অভিভাবকরা। স্কুলের সময় ক্লাস না করিয়ে বন্ধ ঘরে নাকি শিক্ষকরা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন! এনিয়ে ধুন্ধুমারের পর অবশ্য গায়ে-মাথায় ডিমমাখা অবস্থাতেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক ও সহশিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন অভিভাবকরা। নিজস্ব ছবি
মানিকচকেরল হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায়শয়ই মিড ডে মিল দেওয়া হয় না বলে অভিভাবকদের অভিযোগ তোলেন। শুধু তাই নয়, স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না বলেও অভিযোগ। এসবের মাঝে সোমবার বিদ্যালয়ে মাত্র ৭জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক জানিয়েছিলেন, মিড ডে মিল আর রান্না করতে হবে না। একথা অভিভাবকদের কানে যাওয়ামাত্র তাঁরা খেপে যান। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে চড়াও হন। সেখানে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রতিবাদ চলাকালীন স্কুলের এদিক-ওদিক থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর কন্ডোম। বিক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে! এরপরই প্রধান শিক্ষক ও সহ-শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন অভিভাবকরা। সারা গায়ে-মাথায় ডিমের কুসুম ছড়িয়ে পড়ে।
সেই ধাক্কা সামলে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, ‘‘এখানে রোজই মিড ডে মিল দেওয়া হয়। পড়াশোনাও হয়। কিন্তু এত কম ছাত্রছাত্রী আসায় আজ রান্না করতে বারণ করেছিলাম। তারপর অভিভাবকরা এভাবে ডিম ছুড়ল।'' বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান দেবাশিস মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘এই স্কুলে ক্লাস হয় না, অন্য ঘরে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কুকীর্তি করেন। এরকম অভিযোগ প্রায়ই কানে এসেছিল। তখন প্রশাসনকে বলে কোনও লাভ হয়নি। তৃণমূল নেতারা সবাইকে আড়াল করত। এখন আমাদের সরকার, এখন সব অন্যায়ের বিহিত করবই। আমাদের দাবি, এই শিক্ষককে এখান থেকে বদলি করে দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, যাতে এখানে শিক্ষার পরিবেশ ফেরে।''
