জলপাইগুড়ির হাড়হিম হত্যার নেপথ্যে তন্ত্রমন্ত্র! পুলিশি তদন্তে প্রামথমিকভাবে উঠে আসছে, চাঞ্চল্যকর তথ্য। মারণ-উচাটন মতো তন্ত্র প্রক্রিয়া সমাধা করতেই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার মুন্ডুচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অনুমান। মঙ্গলবার জামাই আলামিন হককে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। ধৃতকে হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
গত শনিবার জলপাইগুড়িতে সমিজা খাতুন নামে এক বৃদ্ধার মাথা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। তিনি বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাণিজ্যের হাট এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার তদন্ত নেমে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদের তথ্য সামনে আসে। তারপরই জানা যায় বৃদ্ধার জামাই আলামিন হক ঘটনার পরদিন থেকে পলাতক।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সম্পত্তি বিবাদে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে খুন করেছে সে। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার আলামিনকে গ্রেপ্তার করে জেরা করতেই, সে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তবে এখনও বৃদ্ধার কাটা মুন্ডু উদ্ধার করা যায়নি। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, কাটা মুন্ডু উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। কিন্তু কালো জাদুর প্রসঙ্গ আসছে কী করে?
পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্থানীয় এক ওঝা রফিকুলের সঙ্গে বৃদ্ধা ও জামাইয়ের ভালো সম্পর্ক ছিল। ওঝা বৃদ্ধার বাড়িতেও আসতেন। তাঁরা প্রত্যেকেই কালো জাদু ও নানান তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাস করতেন বলে জানা গিয়েছে। এসপি শৌভনিক বলেন, "জলপাইগুড়িতে এই রকম নৃশংস কাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে নেই। তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পারিবারিক বিবাদ ও সম্পত্তির কারণে খুন। পাশাপাশি কালো জাদু এই সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসছে। ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
