পেটের টানে কাজে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুতে। আর সেখানেই বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে আটক হতে হয়। এরপর ডিটেনশন ক্যাম্পে কেটেছে প্রায় একটা বছর। অবশেষে জেলমুক্তি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) পরিযায়ী শ্রমিক আওয়াল শেখের। মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার আমডহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তোপিডাঙা এলাকার বাসিন্দা আওয়াল। পরিবারের দাবি, একমাত্র রোজগেরে ছেলে জেলে থাকায় প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের। শুধু তাই নয়, স্বামীকে জেল থেকে ছাড়াতে সোনার গয়না পর্যন্ত স্ত্রীকে বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে আওয়াল শেখের জেলমুক্তি কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে পরিবারে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে তামিলনাড়ুর তুথুকুড়িতে যান বছর ২৩ এর আওয়াল শেখ। সদ্য কাজে গিয়েছেন। চারপাশে অপরিচিত মানুষের ভিড়। এর মধ্যেই হঠাৎ পুলিশের অভিযান! জানা যায়, গতবছর ২ এপ্রিল আওয়াল শেখ-সহ নয়জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্যেই তাঁকে আটক আটক করে সে রাজ্যের পুলিশ। শুধু তাই নয়, পরিচয়পত্র আনার সুযোগ না দিয়েই পুলিশ ফরেনার্স আইনে আওয়াল শেখকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। এরপরেই বাড়ির ছেলেকে ফেরাতে শুরু হয় আইনি লড়াই।
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে মানবাধিকার কমিশনে মামলা দায়ের করা হয়। শেষমেশ আদালতের নির্দেশের পর এক বছর পর সোমবার সন্ধ্যায় জেলমুক্তি ঘটে আওয়ালের। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই তাঁর বাড়ি ফিরে আসার কথা রয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকমাসে একের পর এক বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী নিগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে খুনের অভিযোগও উঠেছে। যা নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল। এমনকী এই ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এই বিতর্কের মধ্যেই ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে একবছর ধরে জেলে থাকতে হল বাংলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিককে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
