প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ ছিলই। প্রার্থী নিয়ে বিরোধ মেটাতে পাহাড় থেকে মাদারিহাটে নেমে এসেছিলেন খোদ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। কিন্তু এবার এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠে এল মাদারিহাট ১ মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক টিম্পু ওঁরাও-র নাম। মাদারিহাটে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে (Bengal Election 2026) লড়ার ঘোষণা করে দিলেন তিনি। আদিবাসী এসটি সম্প্রদায়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা কেউ বিধানসভা লোকসভাতে তুলে ধরেন না। এই অভিযোগ তুলে টিম্পু ওঁরাও নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
এদিন তিনি বলেন, ‘‘মাদারিহাট থেকে যাদের আমরা বিধানসভা লোকসভায় পাঠাই, তাঁরা কেউ আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য কিছু করেন না। আদিবাসীদের সমস্যা লোকসভা বিধানসভায় তুলে ধরেন না। সেই কারণে আমি নির্দল প্রার্থী হিসেবে এবার লড়াই করব। এবার আমি জিতে আদিবাসী এসটি সম্প্রদায়ের মানুষের সমস্যার সমাধান করব।’’ জানা গিয়েছে, এই বিধানসভায় বিজেপি লক্ষ্মণ লিম্বুকে প্রার্থী করেছে। তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই বীরপাড়ার বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এইসব ক্ষোভ-বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন বিজেপি নেতা টিম্পু ওঁরাও। শুধু তাই নয় মাদারিহাটে ভোটের প্রচারে বিজেপি নেতা তথা বিগত মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাহুল লোহারকে নামতে দেখা যাচ্ছে না। রাহুলের মান ভাঙাতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন বিমল গুরুংও। রাহুলের মান ভেঙেছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার আগে মাদারিহাটে বিজেপির আর এক নেতা নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে (Bengal Election 2026) লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া, এই কেন্দ্রে এবার মহা ফাপরে পড়েছে বিজেপি।
যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, ‘‘টিম্পু ওঁরাও আমাদের দলের কার্যকর্তা। দলীয় নেতৃবৃন্দ কথা বার্তা বলছেন। উনি এখনও মনোময়ন জমা দেননি। ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের দলে একটি অনুশাসনও সকলকে মেনে চলতে হয়।’’ উল্লেখ্য, মাদারিহাটে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিগ্গা জয়লাভ করেন। কিন্তু ২০২৪ সালে মনোজ টিগ্গা লোকসভায় চলে যান। তারপরে মাদারিহাট বিধানসভায় উপনির্বাচন হয়। সেই আসনে জয়লাভ করে তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পো।
