স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা এক যুবকের দেহ ঘিরে অমানবিকতার চেহারাটা ফের প্রকট হল। ট্রেনের ধাক্কায় জখম ওই যুবককে কাতরাতে দেখে ভিড় করলেন অনেকেই, কিন্তু সাহায্যের হাত এগিয়ে দিলেন না কেউ। এই অমানবিকতার ভিড়ের মধ্যে থেকেই উঠে এল দু’টি মানবিক মুখ। তবে তাঁদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো সম্ভব হল না ওই যুবককে। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার এই ঘটনায় ওই যুবকের মৃত্যুর নেপথ্যে শুধু যে সাধারণ মানুষের অসহযোগিতা নয়, রেল ও হাসপাতালের গাফিলতিও রয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনা অনেকগুলি ব্যবস্থাকে একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।
[বছর ঘুরলেও এখনও জট খুলল না আবেশ মৃত্যুরহস্যের]
এদিন সকাল ৯টা নাগাদ হাবড়ার ২ নম্বর রেলগেটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক। আপ ও ডাউন লাইনের মাঝে পড়ে তাঁকে কাতরাতে দেখে একে একে বহু মানুষ জড়ো হয়ে যান। কেউ বলেন, ‘এ বাঁচবে না।’ কেউ আবার বলেন, ‘হাসপাতালে নিলে হয়তো বাঁচতেও পারে।’ তবে এত জল্পনার মধ্যেও কেউ তাঁকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন না। প্রায় মিনিট কুড়ি ওই ভিড়ের মধ্যেই রক্তক্ষরণ হল তাঁর। তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলেন ওই যুবক। সেই সময় দুই সন্তানকে স্কুলে দিয়ে টোটোয় চেপে বাড়ি ফিরছিলেন অশোকনগরের এক গৃহবধূ সুদীপ্তা দে চক্রবর্তী। মুমূর্ষু ওই যুবককে কাতরাতে দেখে এগিয়ে যান তিনি। ভিড়ের কাছে বার বার আবেদন জানান, সাহায্য করার জন্য। সেই সময় ঘটনাস্থলে আসেন এক আরপিএফ কর্মীও। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। এর পর তাঁর টোটোচালক রাজদীপ ব্রহ্মর সাহায্যে ওই যুবককে টোটোয় তুলে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যান সুদীপ্তা দেবী। কিন্তু, সেখানেও তেমন কোনও সাহায্য মেলেনি বলে দাবি সুদীপ্তা দেবীর। তিনি বলেন, “ওই যুবককে সামান্য ড্রেসিং করে প্রথমে এমারজেন্সিতে ফেলে রাখা হয়। অনেক পরে মেল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তেমন কোনও চিকিৎসা হয়নি। যুবকটিকে আইসিউতে না দিয়ে জেনারেল ওয়ার্ডে রেখে দেয়। আমি বলতে গেলে আমার সঙ্গে এক কর্মী দুর্ব্যবহারও করেন।” যা আশঙ্কা ছিল তাই হল। হাসপাতালে ভর্তি করার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই মৃত্যু হল ওই যুবকের।
[পুলিশের সঙ্গে বচসার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা]
The post রেললাইনের ধারে পড়ে আহত যুবক, সাহায্যের হাত বাড়াল গৃহবধূ ও টোটোচালক appeared first on Sangbad Pratidin.
