বসন্তে ফের ভারী তুষারপাত দার্জিলিংয়ের সান্দাকফুতে। ফেব্রুয়ারি মাসের পর শুক্রবার রাত থেকে ভারী তুষারপাত শুরু হয়েছে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যের সর্বোচ্চ এলাকায়। বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। বরফের চাদরে ঢেকেছে মানেভঞ্জনও। তবে বৃষ্টি হলেও বরফ পড়েনি দার্জিলিং শহর এবং টাইগার হিলে। এদিকে ভারী তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে পূর্ব এবং উত্তর সিকিমে। বিপর্যস্ত চিন সীমান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার প্রয়োজনে নাথু-লা ও ছাঙ্গু উপত্যকা ভ্রমণে পাস ইস্যু বন্ধ করে রেখেছে সিকিম প্রশাসন। ভারী বর্ষণের জেরে প্রতিটি ঝোরা ও নদীর জলস্তর বেড়েছে।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তুষার চাদরের ঢেকেছিল দার্জিলিংয়ের সান্দাকফু। এবার শুক্রবার রাত থেকে ফের তুষারপাত শুরু হয়েছে। চলতি বছরে এই প্রথম এত ব্যাপক আকারে তুষারপাত হল সান্দাকফুতে। শনিবার সকালেও তুষারপাত হয়েছে। তুষারপাতের জেরে শতাধিক পর্যটক আটকে রয়েছে সান্দাকফু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ রাতেও বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢাকা পড়েছে রাস্তাঘাট। বৃষ্টি এবং তুষারপাত আবহাওয়ার দুই ছবি ধরা দিয়েছে উত্তরের পাহাড়-সমতলে। পর্যটকরা এখনও নিরাপদে আছেন। তবে তাঁদের নিচের অংশে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর।
বরফে ঢেকেছে গাড়ি। ছবি- সংগৃহীত
কিন্তু মার্চের শেষ প্রান্তে সান্দাকফুতে এমন তুষারপাত আবহাওয়ার খামখেয়ালি চরিত্র বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা। যদিও মাত্র একমাসের ব্যবধানে ফের তুষারপাত পেয়ে খুশি সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন প্রধান। তিনি বলেন, "সান্দাকফুতে এই সময় তুষারপাত হয়। এবারও হল। ফলে বেশি সংখ্যায় পর্যটক এখানে আসবেন।" শুধু ফালুট, সান্দাকফু নয় বরফের চাদরে ঢেকেছে টামলিং, টুংলু, মানেভঞ্জনও। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সিকিম কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে আগামী চারদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে সান্দাকফুতে তুষারপাত হতে পারে।
বরফে ঢেকেছে বাড়িঘর। ছবি-সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘উঁচু পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত চলবে। এছাড়াও বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড় ও সমতলে সমানতালে বৃষ্টি হবে। তবে রবিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।’’ রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানান, সান্দাকফুতে তুষারপাতের খবর মিলতে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে পর্যটক মহলে। দার্জিলিংয়ের হোটেল, হোমস্টেগুলোতে প্রচুর ফোন আসছে। এদিকে উত্তর এবং পূর্ব সিকিমেও তুষারপাত চলছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু এবং থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
বরফে ঢেকেছে গোটা এলাকা। ছবি- সংগৃহীত
পাশাপাশি ইউমথাং থেকে জ়িরো পয়েন্টের রাস্তাও তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচুং এবং মঙ্গন যাওয়ার একাধিক রাস্তা খোলা রয়েছে। যদিও হালকা যানবাহন ছাড়া বড় গাড়ি চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু উপত্যকা, নাথু-লা পাস সহ জওহরলাল নেহেরু রোড বরফের পুরু আস্তরণে তলিয়ে আছে। ছাঙ্গু উপত্যকা এবং নাথু-লা পাসে যান চলাচল বন্ধ আছে। সেখানে পর্যটকদের ভ্রমণ পাস ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে।
